ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানি: ধর্ম ও সাংস্কৃতির মিলন
ব শ ব র ব হত তম – পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়াতে কোরবানি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজন। স্থানীয় মুসলমানরা এটিকে সামাজিক যোগসূত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ঈদের নামাজের পরে শুরু হয় পশু জবাই প্রক্রিয়া। সারাদেশের মুসলমান মসজিদে বা খোলা মাঠে একত্রিত হন, পরে মাংস বণ্টন করেন। তালিকা তৈরি করে নিশ্চিত করা হয় এতিম, বিধবা ও গরিবদের কাছে মাংস পৌঁছানো।
ইন্দোনেশিয়ান শিল্পীদের হাতে উট কোরবানি বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষত পূর্ব জাভার খামারিরা এতে আগ্রাহ প্রকাশ করছেন, কারণ এর মাধ্যমে লাভ বেশি হয়। তবে গরু ও ছাগলের চেয়ে উটের সংখ্যা এখনও কম।
ইন্দোনেশিয়ায় কোরবানি আয়োজন হয় ‘হারি রায়া হাজি’ নামে। এটি সামাজিক সম্প্রীতির ব্রিজ হিসেবে দেখা হয়।
বিবর্তনীয় নৃবিজ্ঞান প্রমাণ করে ইন্দোনেশিয়ার আদিম উপজাতিরা ইসলামের আগে ফসল বলিদানের অভিজ্ঞতা ছিল। আগে হত পোড়া মাংস খাওয়া, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মসলার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাভায় কোরবানির স্থানীয় রেসিপি হল ‘রেন্দাং’— মাংস নারকেল ও মসলার সাথে আগুনে শুকানো হয়। সুমাত্রার মাংস হল ‘গুড়াই’ ও ‘পেম্পেক’ বলে পরিচিত, যা মাছ ও মাংসের মিশ্রণ। সুলাওয়েসিতে কোরবানি দিন মাংস কাতো বাঁশে ভাজা হয়।
দ্বীপটির ইসলামের প্রসার ঘটে ১৩শ শতকে, আরব ও গুজরাটি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তারা শুধু ব্যবসা করেন না, কোরবানির ধারণাও সাথে আনেন। স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে এটি নিজস্ব রূপ নিয়েছে।
প্রযুক্তির প্রসারে কোরবানি আয়োজন ডিজিটাল হয়েছে। অনলাইনে পশু কেনা যায়, মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মাংসের ভাগাভাগি হিসাব রাখা হয়। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ‘হারি রায়া হাজি’ শুভেচ্ছা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঈদের সকালে ইন্দোনেশিয়ার শিশুরা নতুন পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়ি যায় ‘মিন্টা মাফ’ করার জন্য। এটি পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার প্রকাশ। যারা শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে পারেন না, তারা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।
তবু কোরবানির মূল সংস্কৃতি হলো ত্যাগ ও ভাগাভাগির চেতনা। বিবর্তন যাই বলুক, মাংস বিতরণের সময় মানুষের মুখে হাসি ফোটে একই রকম।