ফল ও সবজি রপ্তানিতে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
ফল ও সবজ রপ ত ন ত – বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে প্রতিদিন কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে লাউ, কুমড়া, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপে সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি রপ্তানি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও আকাশপথে বিঘ্ন ঘটার কারণে এই অঞ্চলের সবজি রপ্তানি প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর রপ্তানি পুনঃস্থাপিত হয়।
সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সবজি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দখল ঘটানোর আশঙ্কা ছিল। শীত মৌসুমে এই অঞ্চলে কিছু শাকসবজি উৎপাদিত হয়। কিন্তু গ্রীষ্ম মৌসুমে এগুলো কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি চাহিদা চার-পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ প্রথম শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানি শুরু করে ১৯৭৩ সালে। সেই সময় প্রধান বাজার ছিল ইংল্যান্ড। তখন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার। কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এটি তাজা ফলমূল, সবজি, পান ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের একমাত্র সংগঠন। বর্তমানে এ সংস্থার সদস্য সংখ্যা ৫০০ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি ও ফল রপ্তানি করছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত বাংলাদেশের জন্য মূল প্রতিযোগী। মুম্বাই থেকে তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পৌঁছে যায়। তবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাঠালে সেগুলো পৌঁছানো সময় প্রায় ২৫ দিন। এ কারণে ভারত মধ্যপ্রাচ্যে সবজি রপ্তানি করতে সমস্যা হয় না।
বর্তমানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সবজি রপ্তানির মূল্য ৫ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানির মূল্য ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। বিদায়ী বছরে বাংলাদেশ থেকে সবজি রপ্তানির মোট মূল্য ৮ কোটি ডলার। সৌদি আরবে রপ্তানির মূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ইউএইতে ৯৯ লাখ ডলার, কাতারে ৪১ লাখ ডলার ও কুয়েতে ৩১ লাখ ডলার। এর বাইরে যুক্তরাজ্যে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, ইতালিতে ৩৬ লাখ ও কানাডায় ২৩ লাখ ডলারের সবজি রপ্তানি হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে নানান ধরনের ফল ও সবজি। এশিয়ান ফল, সবজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ। আম, আনারস, কমলা, কলা, কফি, �