তোফায়েল আহমেদ: হারিয়ে যাবেন না, তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক সফরের কথা
একজন মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতা
ত ফ য় ল আহম দ – ত ফ য় ল আহম দ – তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের সমাজে একটি বিরল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি স্বাধীনতার পর দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেন। কোনও জটিল পরিস্থিতিতে কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতে অস্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি বলতেন, “নথিটা দাও, আমি নিজেই লিখে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে সমস্যা হলে সেটা আমি দেখবো।” তাঁর এ স্বাক্ষর তাঁর সরল ও আত্মবিশ্বাসী চরিত্রের প্রতিফলন করে।
তাঁর মুখে কখনো বিষণ্ণতার ছায়া পড়ে নি। সেই দিন মন্ত্রী কক্ষে প্রবেশের আগে তিনি আমাকে নীরবতা ছাড়া মন্তব্য করেন, “তোমার কাছে আমু ভাইয়ের একটি কাজ আছে। সেটা তাড়াতাড়ি করে দিতে হবে।” এ কথা শুনে আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়েছিলাম। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের পদ্ধতি দেশের বিশেষ করে যুব নেতাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে তিনি একজন মানুষ হিসেবে বিশেষ ছিলেন। তাঁর স্বভাবে সহজে আনন্দের ছাপ রয়েছিল। মাঝে মাঝে তিনি বলতেন, “কোনো একটি মতলব নিয়ে এসেছো।” আমি একদিন তাঁর কক্ষে প্রবেশ করার সময় বলি, “শিগগিরই ঢুকেন স্যার, এরমধ্যেই কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছেন আপনি কোথায়?” তাঁর অত্যন্ত সচেতন ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনার প্রমাণ সেই দিন দেখা গেল।
“সানগ্লাস নাকি এদেশের গণমানুষের রাজনৈতিক মানের সঙ্গে মানানসই নয়,” বলেন তিনি।
এ কথা তাঁর সামাজিক প্রতিবেদনে প্রতিফলন করেছিল এবং তাঁর স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি এর প্রমাণ ছিল। তাঁর সামাজিক সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছু বিশেষ মন্তব্য করেন যা আমাদের মন্ত্রীদের মধ্যে সমান পাওয়া যেত না।
তাঁর পরিচ্ছন্ন স্বভাব ও রুচি সম্পন্ন বৈশিষ্ট্য তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার সাথে একত্র অবদান রেখেছিল। তিনি বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সানগ্লাস বাদ দিয়েছিলেন যা তাঁর সমাজের মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে স্থান পায়। তাঁর রাজনৈতিক সফরে অনেক সময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে বিশেষ সহায়তা করেন।
তাঁর বদন রাগান্বিত হয়ে চুপ করে আমার কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন। দুয়েকদিন পরে অনেকের উপস্থিতিতে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “সেদিন তো মান্নানকে একজন এমপি জামায়াতের লোক বলে গেল।” আমি নিজেই বলি, “স্যার, আমি এই প্রথম এমনটা শুনলাম।” তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও কর্ম কর্মের স্থান অনু