কোরবানি ঘিরে পলাশে ব্যস্ত কামারশিল্পীরা
ক রব ন ঘ র পল শ – ঈদ কোরবানির আগমনে প্রতিদিন ব্যস্ত কামারশিল্পীদের দেখা যাচ্ছে। তারা দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি, কুড়ালসহ নানা ধরনের সরঞ্জাম তৈরি করছেন। কয়লার আগুনে লাল হয়ে ওঠা লোহার বস্তুতে হাতুড়ির টুং টাং শব্দ শোনা যাচ্ছে নরসিংদীর বড় বাজার পাতিল বাড়ি রোডসহ জেলার বিভিন্ন কামারশালাগুলোতে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোরবানির ঈদ আসতে পারে। এতে কামারশিল্পীদের প্রান্তর মুখরিত হয়ে উঠছে। অলস সময় কাটাতে হয়, তাতে কোনো উপার্জন না থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে কঠিন কষ্টে দিন যাচ্ছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার সেকান্দরদী গ্রামের রনি কর্মকার জানান, কোরবানি ঈদ ঘনিয়ে আসছে বলে তারা কাজে ব্যস্ত। পৈতৃক সূত্রে এই পেশায় যুক্ত অধিকাংশ কামার নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিযোগিতা দিয়ে বাঁচাচ্ছেন। তবে লোহার দাম বাড়ছে, জ্বালানি কয়লার দাম বাড়ছে, কিন্তু তৈরি জিনিসের দাম কম হয়নি।
অলস সময় কাটাতে হয় কামারদের জন্য। সারা বছর অনটনের মধ্যে কাটিয়ে কোরবানির ঈদ সামনে পেলে দম ফেলার ফুসরত পান না। আগুন, লোহা আর ঘামের সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া তাদের হাতের যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করে হাজারো পরিবারের মাংস কাটার কাজ। অথচ তাদের নিজেদের জীবনে অভাবের লালগোলাপ জ্বলছে সারা বছর ধরে।
শিবপুর উপজেলার পুটিয়া হাটে আসা নাঈম নামে এক ক্রেতা জানান, কোরবানি ঈদ আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনে ফেলেছেন। অন্য এক ক্রেতা মাইনুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশু বিক্রির পাশাপাশি জবাইয়ের যন্ত্রপাতি ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দা, কুড়াল, চাপাতি, চাকুর দাম গতবারের চেয়ে বেশি বলে জানান তিনি।
প্রযুক্তি যতই আসুক না কেন, পেশার মূল সুরটি হারিয়ে না যাওয়ার চিন্তা তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। সারা বছর অনটনের মধ্যে কাটিয়ে কোরবানির ঈদ সামনে পেলে দম ফেলার ফুসরত পান না নরসিংদীর এসব কামার শিল্পী। তাদের ওপর নির্ভর করে হাজারো পরিবারের কোরবানির মাংস কাটার কাজ। অথচ তা�