কুমিল্লায় এইচআইভি সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে
ক ম ল ল য় ব ড়ছ – এইচআইভি সংক্রমণ কুমিল্লায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বর্তমান বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় মোট ৩৭ জনের শরীরে সংক্রমণ প্রমাণিত হয়েছে। তার মধ্যে মারা গেছেন ৭ জন, যার মধ্যে মে মাসে প্রতিদিন তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে।
সংক্রমণের উৎস পরিবর্তন হয়েছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এইচআইভি ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম বর্তমানে অনিরাপদ যৌন আচরণ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি-এআরটি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জন পজিটিভ হয়েছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্রোত বিশ্লেষণ দেখায়, বর্তমানে অধিকাংশ সংক্রমণ অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে হচ্ছে। তবে কয়েক জন প্রবাসে থাকাকালীন এবং বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। এইচআইভি সংক্রমণের শনাক্তকারীদের অনুসারে, গত বছর থেকে পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি কেস হয়েছে।
এক পরিবারের স্থিতি পরিবর্তনের পরিচয়
একটি পরিবারের কাহিনী বলছে সামাজিক সংকটের প্রতিফলন। এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার পর পরীক্ষায় তার স্ত্রী স্বামীকে জানতে পেরেছেন, যিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং অনুমানে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করেননি। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নিজেও এইচআইভি পজিটিভ হন। তবে তাদের একমাত্র সন্তান আক্রান্ত হয়নি।
সামাজিক লজ্জা ও গোপনীয়তার কারণে অনেকে সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কেন্দ্রের কাউন্সিলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘যৌন সম্পর্ক ছাড়া আরো অনেক উৎস থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পরীক্ষার জন্য আসেন না কয়েক জন।’ সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হলেও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গত দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারপরও মানবিক কারণে তারা সেবার জন্য উপস্থিত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানান, নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরি।