অনুপ্রবেশ রুখতে বাংলা সরকারের অসম মডেলের পথে উদ্যোগ
অন প রব শ র খত অসম – বাংলার নতুন বিজেপি সরকার অনুপ্রবেশ বিরোধী স্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার স্পষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন, বরদাশত করা হবে না। এই মন্তব্য সেই সুরে পুনরায় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হন।
অসমের সীমান্ত রক্ষার সফল মডেল বাংলাতে প্রয়োগ করা সম্ভব, এ দাবি শুভেন্দু করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও আপস হবে না। বিজেপি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল আমলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে, যা জনসংখ্যার ভারসাম্য থেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল।
“অসমের প্রতিবেশী অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ও সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা বাংলাতে প্রয়োগ করা যেতে পারে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও প্রশাসনিক কঠোরতা থেকে অনেক কিছু শিখার মতো আছে।”
শুভেন্দু অধিকারী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিজের “বড় ভাই” বলে উল্লেখ করেন এবং তার প্রশাসনের দিকে প্রশংসা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতীতে সীমান্ত রক্ষার সঠিক সহযোগিতা না পেলে অনুপ্রবেশ বিরোধী পদক্ষেপে দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে- বাংলা কি সত্যিই অসমের মডেল অনুসরণ করে এনআরসি বা আরও কঠোর নীতি চালু করতে চলেছে? নাকি এটি শুধু ভোটব্যাঙ্ক প্রভাবিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক বার্তা মাত্র? বাস্তব দিক থেকে দেখা যাচ্ছে এনআরসি বাস্তবায়ন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা আইনি, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে জড়িত।
আগামী দিনে সরকারের পদক্ষেপই বুঝতে হবে, বার্তা বাস্তবায়নের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় হবে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় কি পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সমস্ত বিষয়ে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, অনুপ্রবেশ বিরোধী নীতি কার্যকর করা হবে।