News

মিরকাদিমের ৩০ টাকার গরুতে পুরান ঢাকার কোরবানি

পুরান ঢাকার কোরবানি: আত্মীয়তা আর সামাজিক বন্ধন ম রক দ ম র ৩০ ট - ঈদের দিন পুরান ঢাকার গলি গলি অন্য রূপ নেয়। কোরবানি শুধু ধর্মীয় প্রথা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার

Desk News
Published May 28, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : John Taylor - banglabeacon.com

পুরান ঢাকার কোরবানি: আত্মীয়তা আর সামাজিক বন্ধন

Banglabeacon.com – ম রক দ ম র ৩০ ট – ঈদের দিন পুরান ঢাকার গলি গলি অন্য রূপ নেয়। কোরবানি শুধু ধর্মীয় প্রথা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরিবর্তে এখন এটি সামাজিক সংস্কৃতির প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। হোসনি দালান, বংশাল, নাজির বাজার, লালবাগ ইত্যাদি স্থানগুলোতে কোরবানি অনুষ্ঠিত হতো এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে। ঈদের আগের সপ্তাহে এই মুহূর্তে গলির উৎসবে আমেজ তৈরি হতো।

সামাজিক ঐতিহ্যের স্বর বেজে ওঠে

পুরান ঢাকায় কোরবানি ছিল নবাবি আমলের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। নবাব পরিবারের সমাজে এই প্রথা অনুষ্ঠিত হতো রাজকীয় ভাবে। নামাজ শেষে নবাবদের শ্বশুরবাড়িতে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হতো মাংসের বণ্টনে। এই দিনে সাধারণ মানুষ নবাবদের সঙ্গে বুকে বুকে আলিঙ্গন করে আনন্দ লাভ করতেন।

পুরান ঢাকার রীতি ছিল এমন যে কোরবানির মাংস বণ্টনের সময় প্রথমে ছেলেমেয়েদের শ্বশুরবাড়িকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। গরুর পেছনের রানটি বড় ডালার ওপর হাতের নকশা করা চাদরে ঢেকে পরমাত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানো হতো। এই পদ্ধতির সঙ্গে বেয়াই বাড়ি থেকেও আসত একটি রান।

রেফ্রিজারেটর না থাকায় পুরান ঢাকার গৃহিণীরা মাংস সংরক্ষণে অভিনব উপায় ব্যবহার করতেন। রান ও সিনা আস্ত করে রাতভর ঝুলিয়ে রক্ত ঝরিয়ে নেওয়া হতো। তারপর চর্বি গলিয়ে মাংস তাতে ডুবিয়ে রাখা হতো। এ পদ্ধতির ফলে মাংস কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকত।

ঈদের দিন বিশেষ উৎসবে পরিণত হয় কোরবানি

ঈদের তৃতীয় দিন রাতে পরিবারের কর্তারা বাবুর্চিগিরি করতেন। কেউ মাংস সেঁকতেন কাঁচা, কারও পুড়ে যেত। এই কাজে হাসি-তামাশা ও ঠাট্টা-কৌতুক কম হতো না। গরম গরম পরোটার সঙ্গে শিক কাবাব খেয়ে দিন শেষ হতো।

পুরান ঢাকার রীতি ছিল এমন যে কোরবানি কেবল ছাগল বা বকরি হতো। সে সময় থেকেই এই উৎসবকে ‘বকরি ঈদ’ নাম দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে ধীরে ধীরে গরু কোরবানি বেশি পরিমাণে দেখা দেয়। মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম থেকে আসা নাদুসনুদুস সাদা গরু ছিল বনেদি পরিবারের পছন্দ। তখন ঢাকাবাসী বলতেন, মিরকাদিমের গরু ছাড়া কোরবানি সম্পূর্ণ হয় না।

সেকালে স্বাভাবিক আকারের গরুর দাম ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বনেদি পরিবারগুলো কোরবানি মাংস ব্যবহার করে বিভিন্ন খাবার তৈরি করতেন। যেমন বটি কাবাব, কলিজি ভুনা, গুরদা ভুনা, নেহারি, কোফতা, চাপ, শিক কাবাব ইত্যাদি। গরুর কুঁজের মাংসের কাবাবের স্বাদ আলাদা ছিল।

আজও ঈদ-পরবর্তী আড্ডার আয়োজন করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেখানে ঢাকাইয়া চুটকি, স্মৃতিকথা

Leave a Comment