News

নবাবদের কোরবানিতে টাকার বৃষ্টি, হাতির পিঠে ইমাম

Techtaranga.com_17798003986694

নবাবি আমলে পুরানো ঢাকার ঈদের পরিবেশ

Banglabeacon.com – নব বদ র ক রব ন ত – পুরানো ঢাকার ঈদের আয়োজন ছিল অনন্য আঁকড়ানো একটি বিশেষ পরিবেশ। নবাবদের আমলে সাজানো হতো হাতি ও ঘোড়া যেন যাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কামানের ধ্বনি ও তাকবীরের সুর মিলে যেত ওই উৎসবের অংশ। বকশীবাজার থেকে চকবাজার পর্যন্ত কাশিদা দলের গান ছড়িয়ে পড়ত ঈদের মাঠে।

ঈদের উদযাপন নবাবদের সুবিধার নিদর্শন

নবাবি জৌলুস ছিল মোগল আমলের শেষ দিকে ও ব্রিটিশ আমলের শুরুতে ঢাকার ঈদের প্রতিনিধিত্ব। ইতিহাসবিদদের মতে, নবাব সুজাউদ্দিনের আমলে মুরশিদ কুলি খানের সময় দূর্গ থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত এক কৌশ পথে টাকা ছিটিয়ে দেওয়া হতো। হাজারীবাগ থেকে ঈদের শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল নবাব খাজা আহসানউল্লাহ আমলে।

১৯০৪ সালের একটি ডায়েরিতে উল্লেখ আছে যে ঈদে নবাবের নির্দেশে সাধারণ মানুষ বিনা পয়সায় ক্লাসিক নাটক দেখতেন। এই সময়ে উপমহাদেশে ঈদের নামাজ ও থিয়েটারের এই কনফিগারেশন ছিল বিরল।

নবাব সলিমুল্লাহ আমলে এই সময়ে সাধারণ মানুষ বিনা পয়সায় ক্লাসিক নাটক দেখতেন।

বিশেষ অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা

ঈদের শুরুতে সাজানো হাতি-উট এবং রঙিন পালকি ছিল বিশেষ চিহ্ন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত আছে উনিশ শতকের প্রথম ভাগের ঈদের দৃশ্যের একটি বিরল চিত্রশিল্প। আলম মুসাব্বি নামক চিত্রকর এঁকেছিলেন ঢাকার ঈদের ছবি ৩৯টি জলরঙে।

ঈদগাহে নায়েব নাজিমরা সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পেছনে মোগল ও ইংরেজ জেন্টলম্যান যাত্রা করতেন। পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঈদের শোভাযাত্রা ১৯৫৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী ৪২ বছর তা আর ফিরে আসে না।

আধুনিক পুনরায় উত্তরণ

গত বছর (২০২৫) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। জামাত ও আনন্দ শোভাযাত্রার সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। ঈদের জামাত দেখা সহজ হয়ে উঠেছে আধুনিক সময়ে।

নবাব আলিমুল্লাহ ছিলেন কোরবানির সময় অনন্য ব্যক্তি। তিনি ‘আতা পরগনা’ এর সম্পূর্ণ আয় গরিবদের মধ্যে বণ্টনের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন। এটি ছিল নিঃস্বার্থ দানের অনবদ্য দৃষ্টান্ত।

নবাব আব্দুল গণি আমলে ঈদের নামাজের ইমাম হাতির পিঠে চড়ে আসতেন। নবাবের বন্দুকধারী দল আকাশে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে সালামি জানাত। সেই শব্দে ঢাকার গলিঘুঁজি মুখরিত হয়ে উঠত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *