News

তারাগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প | সংবাদ

9c2e41dc-eeb9-47f4-9d93-ecc8f02bf7a7-0

তারাগঞ্জে বিলুপতির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

Banglabeacon.com – ত র গঞ জ ব ল প – রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক পরিবর্তন আর প্লাস্টিক পণ্যের বিস্তার কারিগরদের পেশাগত দাপট ঘটাচ্ছে। মৃৎশিল্পের আসল বাজারে দাম আর উৎপাদন খরচের বৃদ্ধির মধ্যে বিক্রয় মূল্য অনেক কম হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় শিল্পীদের শোকের সাথে এই পেশার ভবিষ্যতে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি পালপাড়া গ্রামে এক কারিগর ভ্যানে করে তৈজসপত্র বিক্রি করার জন্য বেরোনো হয়েছেন। মৃৎশিল্পীদের মধ্যে সংকট ছড়িয়ে পড়েছে যেহেতু প্লাস্টিকের সস্তা পণ্যগুলো তাদের প্রতিযোগিতার সাথে সাথে চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।

শিল্পীদের পরিশ্রম আর চ্যালেঞ্জ

স্থানীয় কারিগররা বলেন, মাটি সংগ্রহ করে কাদা প্রস্তুত করে হাঁড়ি, পাতিল, কলস ও দইয়ের ভাঁড় তৈরি করতে হয়। এটি শ্রমসাধ্য কাজ যেখানে প্রতিটি পাত্র কড়া রোদে শুকিয়ে মাটির চুল্লিতে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পোড়াতে হয়। কিন্তু চাকার সাহায্যে তৈরি করা এই জিনিসগুলো বাজারে আর আকর্ষণীয় হয় না।

তারাগঞ্জ সদর হড়কলির হাট ও ইকরচালী হাটসহ বিভিন্ন মেলায় এই শিল্পীরা পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু মাটির চড়া দাম আর জ্বালানি সংকটের কারণে নতুন প্রজন্ম এই কাজ থেকে প্রাপ্তি করতে শিল্পীদের বেশি বাধ্য করছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোনাববর হোসেন বলেন, “এই লোকশিল্প আমাদের সংস্কৃতির অহংকার। মৃৎশিল্পীরা এখনও যে নিপুণভাবে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং কুমার পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *