লৌহজং ও কুমারভোগ পদ্মাসেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেতন নেই, অবকাঠামো সংকট চরমে পৌঁছেছে
সরক র গ জ ট হল ও – ২০১৭ সালে চালু হওয়া পদ্মাসেতু প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপিত লৌহজং ও কুমারভোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়দ্বয়ে এখন পর্যন্ত বেতন বা ভাতা সরবরাহ হয়নি, বোনাসও নেই। প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষকেরা বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
সরকারি গেজেট প্রকাশিত হলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা চালু হয়নি। দুটি বিদ্যালয়ে চরম অবকাঠামোগত সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানি, সচল ফ্যান এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চের অভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী আক্তার জানান, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিক্ষকরা। অনেকে দূর থেকে আসেন এবং শিশুদের থেকে টাকা তুলে চক-ডাস্টার কিনতে হচ্ছে।
‘দীর্ঘদিন এখানে চাকরি করতে করতে অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স শেষ হয়ে গেছে। এখন চাকরি হারানো মানে পথে বসা,’ বলেন একজন সহকারী শিক্ষক।
২০২৪ সালের জুনে বিদ্যালয়গুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জুলাই মাসে গেজেট প্রকাশিত হয়, কিন্তু সেই পরিবর্তনের ফলে কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই বিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে কষ্ট শেষ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা উচিত।
কুমারভোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শান্তা আক্তার জানান, নিরাপদ পানি ও টয়লেটের সমস্যায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ঘটছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অন্তত মানবিক কারণে ফ্যান ও বেঞ্চের ব্যবস্থা করার দাবি তিনি জানান।
লৌহজং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারি হওয়ার গেজেট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিক কার্যক্রম এখনো আমাদের আওতায় আসেনি। সরকারি বরাদ্দ না এলে আমাদের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা সম্ভব নয়।