গণপূর্তের মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পে নতুন অনিয়মের অভিযোগ
Banglabeacon.com – ব ল শক ণ ড র র – গণপূর্ত অধিদপ্তরে জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় পড়েছে। ‘গণপূর্তের আরেক বালিশকাণ্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টনক নড়েছে। পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বানে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
পাবনা, যশোর, কক্সবাজার, আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ এবং জননেতা নূরুল হক আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩ হাজার ৪১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাঈদ মাহবুব মোরশেদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে আছেন জনসংখ্যা প্রকল্প কোষের নির্বাহী প্রকৌশলী বীণা দাস। সদস্য হিসেবে আছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশেক আহমেদ শিবলী।
স্বাক্ষর জাল ও প্যাকেজ বিভাজনে অভিযোগ
পিপিআর লঙ্ঘন করে প্যাকেজ ভেঙে এবং অস্তিত্বহীন কাজ দেখিয়ে সাড়ে ২৭ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত হেড অব প্রকিউরমেন্ট এনটিটির অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক প্যাকেজে কাজ ভাগ করার সুযোগ থাকে। পাবনা গণপূর্ত সার্কেল ও গণপূর্ত বিভাগ প্যাকেজ বিভাজনের যে নথি উপস্থাপন করেছে, তাতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের স্বাক্ষর জাল করে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
অথচ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে এ-সংক্রান্ত কোনো ফাইলই নেই। এ প্রসঙ্গে শামীম আখতার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই ফাইলে যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, সেটা আমার নয়। প্যাকেজ বিভাজনের সময় শুধু আমার স্বাক্ষরই থাকে না; স্বাস্থ্য উইংয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীরও স্বাক্ষর থাকতে হয়।’ শামীম আখতারের পূর্ববর্তী বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত নথির স্বাক্ষরের সঙ্গে এই নথির স্বাক্ষরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। এমনকি নামের বানানেও গরমিল রয়েছে।
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধি ও সময়সীমা
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, পিপিআর ও ডিওএফআরসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে এপিপি প্রণয়ন, দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, দরপ্রস্তাব অনুমোদন ও ঠিকাদার নির্বাচন যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। কোথাও ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত প্রাক্কলন ও সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দরপত্রে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক মতামতসহ প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুই ফরে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দিতে হবে কমিটিকে।
ডিপিপিতে উল্লিখিত প্যাকেজ অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কি না এবং তাতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলেছে কি না—তা নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে কমিটি।
প্রকল্প পরিচালকের মন্তব্য ও পাবনা ক্ষেত্র
পাবনা মেডিকেল কলেজসহ চারটি মেডিকেল কলেজ ও একটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ডা. আমজাদুল হক বলেন, ‘আপনাদের প্রতিবেদনকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পেপার কাটিংসহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বার্তাবাহকের মাধ্যমে হাতে হাতে চিঠি পৌঁছে দিয়েছি। এ ধরনের অনিয়ম গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত নন, এমন কর্মকর্তাদের নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণপূর্তের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা শুধু সুপারিশ করতে পারি।’ এই অনিয়মে অভিযুক্ত পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রকল্প-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাঁকে অবহিত করা হয় না বলেও অভিযোগ তাঁর।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি বেজমেন্টসহ ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান, যা এখনো অর্ধসমাপ্ত। মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ‘অবশিষ্ট কাজ’ (রিমেইনিং ওয়ার্কস) দেখিয়ে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে ৬টি দরপত্র আহ্বান করা হয়, যেখানে মূল ভবনের কাজের অন্তর্ভুক্ত অংশও রাখা হয়েছিল। পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির পারস্পরিক যোগসাজশে এসব টেন্ডারের প্রাক্কলন ও অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ। ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে নামসর্বস্ব এসব কাজের বিল পরিশোধও করা হয়েছে।
গণ পূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে গণপূর্তকে এভাবে সামনে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এতে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তার কারণে গণপূর্তের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, মাত্র ৯ তলার ছাদ ঢালাই হওয়া নির্মাণাধীন ভবনের ১০ তলায় গ্লাস ওয়ার্কের কাজ দেখিয়ে বিল দেওয়ার পদ্ধতি চালু ছিল।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব ল শক ণ ড র র?
ব ল শক ণ ড র র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব ল শক ণ ড র র matter?
ব ল শক ণ ড র র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.