মেহেরপুরে বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
Banglabeacon.com – পল ল ব দ য ৎত র – তীব্র গরম ও রোদের মধ্যে পল্লি বিদ্যুৎ বিভাগের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মেহেরপুরবাসী কষ্ট পাচ্ছেন। শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং কারখানার মালিক—সবাই এই দুর্ভোগে পড়েছেন। পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কখন এই সংকট কাটবে।
মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সমন্বয়ে প্রায় পাঁচ লাখ চব্বিশ হাজার ছয়শো গ্রাহক আছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দামুড়হুদা—এই চার উপজেলাসহ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া গ্রিডের দুটি ত্রিশত ত্রিশ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র এবং বারোটি ত্রিশত এগারো কেভি উপকেন্দ্র থেকে সত্তরটি এগারো কেভি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছায়। বর্তমান পিক ডিমান্ড দাঁড়িয়েছে ত্রিশত সত্তর মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিসংখ্যান
মেহেরপুরের তিন উপজেলায় মোট গ্রাহক সংখ্যা এক লাখ ছয় হাজার একশো পঞ্চাশ। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক এক লাখ সত্তরত আটশো আশি, বাণিজ্যিক গ্রাহক নয় হাজার সাতশো দুই, শিল্প সংযোগ দুই হাজার একশো পঞ্চাশ, সেচ পাম্প তিন হাজার চারশো ত্রিশ এবং অন্যান্য গ্রাহক দুই হাজার আটশো একাশি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেলার চাহিদা সত্তরত মেগাওয়াট। অফ-পিক আওয়ারে—অর্থাৎ রাত বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা—চাহিদার বিপরীতে চল্লিশ মেগাওয়াট মিলছে, ঘাটতি পনেরো মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে, সন্ধ্যা ছটা থেকে রাত বারোটা—চাহিদা সত্তরত দুই মেগাওয়াট হলেও মিলছে একচল্লিশ মেগাওয়াট, ঘাটতি একুশ মেগাওয়াট।
অফ-পিক আওয়ারে লোডশেডিং সত্তরত শতাংশ এবং পিক আওয়ারে ত্রিশ থেকে ত্রিশত চার শতাংশ পর্যন্ত। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকারি ঘাটতির তুলনায় বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। শহর ও গ্রামের সরবরাহে বৈষম্যও চোখে পড়ে; গ্রামে শহরের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ মিলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
কৃষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্দশা
বর্ষা মৌসুম হলেও বৃষ্টি না থাকায় ধান ও মরিচের খেতে নিয়মিত সেচ দিতে হচ্ছে। আমন ধান রোপণের মৌসুম শুরু হলেও সেচের অভাবে জমি প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে। পাটকেলপোতা গ্রামের কৃষক শামস বলেন,
শ্রাবণ মাস চললেও বৃষ্টি নেই বললেই চলে, ফলে প্রতিদিন জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে গিয়ে অন্তত তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে এবং দিনের বেশির ভাগ সময় মাঠেই কাটাতে হচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ধানের ফলনে বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন স্কুলে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শুরু হওয়ায় রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ভাটপাড়া গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী নুসরাত জামান বলেন,
দিনে কোনোভাবে চললেও সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিগগির সমস্যার সমাধান না হলে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যবসায়ী ও হাসপাতালের সমস্যা
গাংনীর সাহারবাটি বাজারের ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী বিষু কর্মকার বলেন,
তার দোকানে চারজন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের দৈনিক মজুরি সাতশো থেকে এক হাজার টাকা। বিদ্যুৎ না থাকলেও তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের কাজ দিতে পারছেন না তিনি।
মেহেরপুর জেলায় দুইশো পঞ্চাশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালসহ চারটি সরকারি হাসপাতাল এবং প্রায় অর্ধশত বেসরকারি ক্লিনিক থাকলেও কোনোটিতেই জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক দফা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তাদের ভাষ্য, সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরেও বিদ্যুৎ মিলছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক স্বদেশ কুমার ঘোষ বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় গড়ে প্রতিদিন ত্রিশ থেকে ত্রিশত চার শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। শহরকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানে গত বারিশে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো সুরাহা মেলেনি। বরাদ্দ কম থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি জাতীয় সমস্যা হওয়ায় দ্রুত সমাধান জরুরি, তবে কবে নাগাদ তা সম্ভব হবে বলা যাচ্ছে না।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, সারা দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এলে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is পল ল ব দ য ৎত র?
পল ল ব দ য ৎত র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does পল ল ব দ য ৎত র matter?
পল ল ব দ য ৎত র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.