নদী খননের মাটি চাপা দিয়ে ১০০ স্বপ্ন চাপা পড়েছে
নদ খনন র ম ট ত চ – খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পে বাস করতে হয়েছিল শতাধিক পরিবারের। এই এলাকায় আধাপাকা ঘর বিশিষ্ট ছোট দু’কক্ষে বাস করতে হয়েছিল তাদের। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু বুড়িভদ্রা নদী খনন শুরু হওয়ার পর থেকেই তাদের আশ্রয়ের বিপর্যয় ঘটেছে।
মাটি স্তূপ ঘিরে দুর্দান্ত সংকট
চুকনগর অংশে ১৪৫টি এবং কাঁঠালতলা-বরাতিয়া অংশে ১২৪টি ঘর সরকার নির্মাণ করেছিল। কিন্তু পাঁচ মাস আগে নদী খননের কারণে চুকনগরে ১৪৩টি ঘর ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে সেখানে খুব কম ঘর বাকি আছে। বিপর্যয়ের শিকার হিসাবে সেখানে এখন আশ্রয় নিতে হয়েছে খোলা মাঠে।
“প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে চুকনগর বাজারের পাশে খোলা মাঠে বাস করছে। সেখানে বিদ্যুৎ, পানি আর নিরাপত্তা নেই। খাবারের কষ্টও আছে।” – আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দীন
রাইতে ঘুমাতে পারে না বলে রহিমা বেগম জানান, খননের মাটি ঘরের উপর পড়ছে। তার বাস্তবতা হলো, মাটির চাপে ঘরগুলোর দেয়াল ও জানালা ভেঙে গেছে। পলিমাটির কারণে সেই এলাকার অনেক পরিবার আসবাবপত্র বাইরে সরিয়ে রেখেছে। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির সময় নদী খননের মাটি ধসে তিন বছরের শিশু চাপা পড়েছিল। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু ঘরে খাট আর হাঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।
নদীখনন আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প
যশোর ও খুলনার কিছু অঞ্চলে নদী খনন কাজ চলছে। প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী খনন করা হচ্ছে। পলাশ ব্যানার্জী বলেন, শ্রীনদীর ওপর নির্মিত স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে, কিন্তু বুক উঁচু হয়ে গেছে টেকা আর মুক্তেশ্বরী নদী। ফলে বৃষ্টির পানি জমে বিলগুলো প্লাবিত হচ্ছে।
“প্রচন্ড গরমে ঘরে থাহার উপায় নেই। দরজার অংশ ভাঙে গেছে। কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারতে হবে না।” – ৫০ বছর বয়সী ময়না বেগম
খননের মাটি বিলের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ফলে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির সময় নদী খননের মাটি ধসে তিন বছরের শিশু চাপা পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে তার বেঁচে যাওয়া হয়।
বাকি কাজ নির্ধারণ হয়েছে ২০২৭ সালের জুনে
খুলনা ও যশোর অঞ্চলে খননের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর পুনর্বাসনে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা পরিবারের জীবন বিপর্যয়ের