Bangladesh

থিয়েটার চর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন পিছিয়ে যাচ্ছে?

থ য় ট র চর চ য় - শিল্পীরা থিয়েটারকে ধারণ করে, তারপর অভিনয় করে। সাধারণ মানুষের কাছে থিয়েটার হয়তো কোনো বিশেষ মূল্যবান বিষয় নয়, কিন্তু শিল্পীদের কাছে এটি

Desk Bangladesh
Published August 16, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Techtaranga.com_17868088113911
Foto : Robert Taylor - banglabeacon.com
Table of Contents
  1. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থিয়েটার কেন পিছিয়ে পড়ছে?
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থিয়েটার কেন পিছিয়ে পড়ছে?

Banglabeacon.com – থ য় ট র চর চ য় – শিল্পীরা থিয়েটারকে ধারণ করে, তারপর অভিনয় করে। সাধারণ মানুষের কাছে থিয়েটার হয়তো কোনো বিশেষ মূল্যবান বিষয় নয়, কিন্তু শিল্পীদের কাছে এটি উচ্ছ্বাসের নাম। তারা থিয়েটারকে নিজের সন্তানের মতো ধারণ করে, বর্তমান সিনেমার ফ্রেমের জন্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়ে সবাই মুখস্থ করে এগোলেও থিয়েটারে তা সম্ভব নয়। কারণ থিয়েটারে অভিনয় করতে হয় মন থেকে।

আমাদের দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার বিভাগ রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও এই বিভাগের গুরুত্ব কমে যায় না। জাতীয় দিবস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজনের বেশিরভাগ দায়িত্ব এই বিভাগের ওপরই বর্তায়। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, থিয়েটার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে অবহেলিত বিভাগ।

শিল্প হিসেবে অবমূল্যায়ন

বাংলাদেশের মতো একটি স্বল্প উন্নত দেশে যেখানে উচ্চশিক্ষিতের হার খুবই কম, সেখানে থিয়েটারের মতো বিষয়কে অবহেলার চোখেই দেখা হয়। থিয়েটার যে চর্চা বা অধ্যয়নের একটি বিষয় হতে পারে, একথা কেউ মানতেই চায় না। তারা মনে করে নাটক মানেই অভিনয় আর অভিনয় করতে কোনো কষ্ট আছে নাকি তাই এটা নিয়ে অধ্যয়নের কোনো দরকার নেই। কিন্তু অভিনয় করতে হলেও যে অনেক কিছু জানতে হয়, ভাবভঙ্গি মন থেকে আনতে হয়, চর্চা করতে হয়, ইতিহাস জানতে হয়—একথা কেউ মানতেই চায় না।

পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সুযোগের অভাব

দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই থিয়েটারের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, কখনো পর্যাপ্ত জায়গাও পাওয়া যায় না। থিয়েটার এমন একটি বিষয় যা চর্চা ছাড়া করা অসম্ভব। কিন্তু শিক্ষক, জায়গা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চর্চার অভাবে এই ছোট বিষয় ছোট্টই থেকে যায়। শিক্ষার্থীদের বড় কিছু করে দেখানোর সুযোগই দেওয়া হয় না। আবার সেশনজট তো রয়েছেই।

শিল্পী ও দর্শক দুজনেই থিয়েটার বিমুখ

বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসে মানুষ থিয়েটারের বিকল্প হিসেবে ফোনেই বিভিন্ন সিনেমা বা ছবি দেখে ফলে তারা আর থিয়েটারে যায় না। এখন দর্শক যদি থিয়েটারেই না যায় তাহলে শিল্পীরা অভিনয় দেখাবে কাকে? আপনি মানেন আর না মানেন, বাংলাদেশে অন্যান্য বিষয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি সবাই যেমন কিছু না কিছু কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। থিয়েটার শিক্ষার্থীদেরও এই অর্থটা প্রয়োজন। কিন্তু দিনশেষে যখন তারা অনেক কষ্ট করে একটা নাটক প্রস্তুত করে দেখে আসনে দর্শক খুবই কম তখন তাদের মনোবল ভেঙে যায় আর অর্থ তো হয়ই না।

হয়তো তারা থিয়েটার বিষয়টাকে নিজের ভালোবাসার জায়গা থেকে বেছে নিয়েছে কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে পেট চলে না, দিনশেষে তাদেরও একটা অল্প অংশ অর্থ প্রয়োজন কিন্তু ওটা না পেয়ে ধীরে ধীরে তারাও থিয়েটার বিমুখ হয়ে যায়।

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ থিয়েটার এবং মিডিয়াকে এক মনে করে। কিন্তু থিয়েটার ও মিডিয়া এক নয়। দুটোকে এক মনে করার কারণে তারা ভাবে মিডিয়ার যেই খারাপ দিকগুলো রয়েছে তা হয়তো থিয়েটারেও রয়েছে ফলে অনেক পরিবার থেকে সন্তানদের থিয়েটার পড়তে দেওয়া হয় না। মানুষ থিয়েটারের নাম শুনলে বাঁকা চোখে দেখে। যা থিয়েটারকে দুর্বল করে দেয়।

উপরের এই কারণগুলোর জন্য আমাদের দেশে থিয়েটার পিছিয়ে রয়েছে। অথচ বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই জাঁকজমকভাবে এখনো থিয়েটার পড়ানো হয়। বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটারের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে থিয়েটার চর্চার সুযোগ, পাশাপাশি বিভিন্ন প্রোডাকশনে কাজ করার সুযোগ ফলে তাদের আমাদের দেশের মতো কোনো সংকটে পড়তে হয় না।

থিয়েটার শুধু একটি বিনোদন মাধ্যম নয় বরং এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসের এক বাহক। থিয়েটার সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, বৈষম্য সরাসরি তুলে ধরে। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, শ্রেণীর মানুষের গল্প উঠে আসে। ফলে দর্শকদের মধ্যে এটি সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায়। থিয়েটারের ‘মুখোশ নাটক’, ‘গাননাট্য’, ‘পালাগান’ এর মতো প্রোগ্রামগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে ধরে রাখে। আর শিকড় ছাড়া কী কোনো জাতি বাঁচতে পারে?

থিয়েটার শুধু শিকড় ধরে রাখে না বরং এটি মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায়। থিয়েটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা: কথা বলার প্রকাশভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সৃজনশীলতার মতো দক্ষতাগুলো অর্জন করে। যা যেকোনো কাজে লাগে। তাই থিয়েটারকে অবহেলার চোখে না দেখে, বরং সরকার ও আমাদের উচিত কীভাবে আরো উন্নত করা যায় তার দিকে নজর দেওয়া।

লেখক: শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Frequently Asked Questions

What is থ য় ট র চর চ য়?

থ য় ট র চর চ য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does থ য় ট র চর চ য় matter?

থ য় ট র চর চ য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment