Bangladesh

‘ঢাকায় ট‍্যাংক নেমেছে জিগগেস করতেই শেখ মুজিব বললেন আমি জানি’

ঢ ক য় ট য ক ন - সংবাদের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী নতুন তথ্য তুলে ধরেছেন। ১৪ আগস্টের রাত ১২টার পর থেকেই তিনি ঢাকার

Desk Bangladesh
Published August 15, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Techtaranga.com_17867701957946
Foto : Robert Taylor - banglabeacon.com
Table of Contents
  1. কাদের সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ: ১৫ আগস্টের রাতে ট্যাংক ও বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

কাদের সিদ্দিকীর স্মৃতিচারণ: ১৫ আগস্টের রাতে ট্যাংক ও বঙ্গবন্ধুর সাথে কথা

Banglabeacon.com – ঢ ক য় ট য ক ন – সংবাদের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী নতুন তথ্য তুলে ধরেছেন। ১৪ আগস্টের রাত ১২টার পর থেকেই তিনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্যাংক দেখতে পান। প্রথমে তিনি রক্ষীবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে যান, এরপর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর কাছে যান। উদ্বেগের কথা জানালে বঙ্গবন্ধু তাকে দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দেন। সেই রাত, পরের দিন এবং পরবর্তীতে নানা অজানা বিষয় কাদের সিদ্দিকী এই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন।

সেই রাতের স্মৃতি

রাশেদ আহমেদ প্রশ্ন করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে আপনি দুটি ঘটনার কথা বলেছিলেন। ১৪ আগস্ট গভীর রাতে আপনি ৩২ নম্বর বাড়িতে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে আপনার কথা হয়। পরবর্তীতে আপনি বিদ্রোহ করেন, দেশের মধ্যে থেকেই করতে চেয়েছিলেন। পরে আপনাকে ভারতে চলে যেতে হয়েছিল।

কাদের সিদ্দিকী উত্তর দেন, ওই দিনের কথা যদি বলেন, তাহলে ১৪ই আগস্ট আমার মা তখনকার দিনের পিজি হাসপাতালে ছিলেন। সাধারণত আমি ৮:০০ টা থেকে ৮:৩০ টার দিকে মাকে দেখতে যেতাম, ১০:০০ টায় চলে আসতাম। কিন্তু সেদিন এতো লোক এসেছিল যে আমি ১১:০০ টায় মোহাম্মদপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। মার কাছ থেকে বেরিয়েছি ১২:৩০ টা পৌনে ১:০০ টায়। বঙ্গবন্ধুর ওখানে গিয়ে পৌঁছেছি ১:০৫-৭ মিনিটে।

রাশেদ আহমেদ জিজ্ঞেস করেন, রাতের বেলা? কাদের সিদ্দিকী উত্তর দেন, জী, রাত। ওটাকে আপনি ১৫ই আগস্ট বলতে পারেন।

ট্যাংকের সন্ধান

আমি যখন পিজি থেকে বের হই, সোজা উত্তরে না এসে আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ওই রাস্তা ধরেছিলাম। তো এখন বোধ হয় নেই, পুলিশ কন্ট্রোল রুম ছিল একটা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কোনাতে। সেখানে আমি একটা ট্যাংক দেখেছি। এরপরে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের সামনে একটা ট্যাংক দেখেছি। এখন প্রধান বিচারপতির ভবন যেখানে, ওইখানে আমি একটা ট্যাংক দেখেছি।

ওখান থেকে বের হয়ে যখন মেইন রাস্তায় উঠেছি, এখন ইন্টারকন্টিনেন্টালই বানাইছে বোধ হয়। আগেও ইন্টারকন্টিনেন্টাল নাম ছিল। ওখান থেকে মোড় নেওয়ার পরেই আমি আরেকটা ট্যাংক দেখেছি। এর পরে এখন যেখানে সোনারগাঁও হোটেল, ওর থেকে সামান্য এগিয়ে আরেকটা ট্যাংক দেখেছি।

ওই সময়ে আমার হঠাৎ মনে হয়েছে আমি যখন যাচ্ছি রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পটাতে একটু যাই। আমি আগে কোনদিন রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের ভিতরে যাইনি। তো রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের গেটে ঢুকতেই দেখি আনোয়ারুল আলম শহীদ দাঁড়িয়ে আছে। সে আমার দলে ছিল। আমার দলের থেকেই তাকে দেওয়া হয়েছিল।

আমি জিজ্ঞেস করছি রাস্তায় ট্যাংক দেখলাম কেন? বলছে আমি তো স্যার বলতে পারবো না। কালকে রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, এই জন্য তিনটা ট্যাংক নামানো হয়েছে। কারণ ঢাকা শহরে বিশ্ববিদ্যালয় আর পুরানো ঢাকায় দুইটা গ্রেনেড ফেলা হয়েছিল। আমি বলেছি তিনটা কেন? মনে হয় বেশি দেখলাম। উনি বললেন আমি বলতে পারবো না কিন্তু আমার কাছে তিনটা ট্যাংক বেরনোর খবর আছে। রাষ্ট্রপতি এখনো ঘুমান নাই, একটু আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনি গিয়ে উনার কাছে শুনতে পারেন।

বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ

ওখান থেকে ১০ মিনিট লাগছে, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যেতে। তখন গেট ছিল এতখানি উঁচু চার ফিট বোধ হয়। রিসেপশনে গিয়ে দেখি একজন ডিএসপি অফিসার বসে আছে। আমি যেতে যেতেই বলছেন, স্যার আমি রিং দেবো না আপনি দেবেন? আমি বললাম আপনিই দেন। উনি রিং দিলেন দুটো রিং মনে হয় বাজছে তার পরেই ওপর থেকে সাড়া মিলেছে। কাদের সিদ্দিকী সাহেব এসছেন। কাদের এসছে ওকে নিয়ে আসো।

আমাকে ওই ভদ্রলোক দোতলার একদম সিঁড়িতে উঠিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে ছিলেন গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরা। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এই তুই এতো রাতে? বললাম মাকে দেখে এলাম সেখান থেকে এলাম। তোর মা ঠিক আছে? আমি তো তাকে সন্ধ্যায় দেখে এসেছি। আমি বলছি না মা ঠিক আছে। তাইলে আসলি কেন? আমি যখন হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের ওদিক দিয়ে ঘুরে আসি সেখানে ৪টা ট্যাংক দেখেছি। আরও এগিয়ে আমি আরেকটা ট্যাংক দেখেছি। মনে হয় আমি আরেকটা দেখেছি।

তখন বললেন কি বলিস? তুই জানিস না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেনেড ফাঠাইছে, পুরানো ঢাকায় বোমা ফাটাইছে তার জন্য আমি তিনটা ট্যাংক নামতে দিছি। আমি বললাম না ৩টা না আমি বেশি দেখেছি। আরে তুই মুক্তিযুদ্ধ করে একটু আলাদা রকম হয়ে গেছিস। বড় সতর্ক হয়ে গেছিস। একটা ট্যাংক হতো তুই দুই বার দেখছিস। আমি বললাম না না।

আমি ছেলেবেলার স্কুলে যখন পড়তাম অংকে খুব কাঁচা ছিলাম। আমি জ্যামিতি বীজগণিত পারতাম না। শুধু পাটিগণিতের উপর পরীক্ষা দিয়ে আমি পাস করেছি। ৪০ এ আমি ৪০ পেয়ে পাস করেছি। তাই আমার গুনতিতে ভুল হয়নি। তখন পিঠে হাত দিয়ে বললেন তুই এখন যা, চিন্তা করিস না। যদি সম্ভব হয় ইউনিভার্সিটি আসিস। সেই দেখাই যে শেষ দেখা হবে এটা ভাবি নাই।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর

আমি বাড়িতে এসে শুয়ে পড়েছিলাম। ৫ টার দিকে আমার ছোট বোন সুশু এসে দরজা ধাক্কাচ্ছিল ছোট ভাই ছোট ভাই দরজা খোলেন। আমার পরিবারে লতিফ ভাই হলো বড় আর আমি হলো তার ছোট। আমাদের আরও ৪টি ভাই আছে। দরজা খোল… দরজাটা খুলেছি যে বলছে বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছে। দূর কি বলিস! বলছে হ্যাঁ রহিমা আপা ফোন করেছে আপনারা ফোন এ শোনেন। তখন তো মোবাইল ছিল না। যেতে ধরতেই বলতেছে বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছে। সেনাবাহিনী ক্যু করেছে।

আপনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ক্যু কাকে বলে? এর অর্থ কি আমি তখনও জানতাম না। ওই প্রথম আমি এই শব্দের অর্থ জানলাম। এরপরে রেডিও খুলে শুনি ডালিম অসংলগ্ন ভাবে বলতেছিল শেখ মুজিব সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারফিউ জারি করা হয়েছে। এরকম নানান কিছু। আমার কিন্তু সত্যিই তখনও বিশ্বাস হয়নি। এবং আজকে আপনাকে যেমন বলেছি যে তার মৃত্যু ছিল অবধারিত।

Frequently Asked Questions

What is ঢ ক য় ট য ক ন?

ঢ ক য় ট য ক ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ক য় ট য ক ন matter?

ঢ ক য় ট য ক ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment