Bangladesh

ছেলে থাকবে বাপের কাছে, মেয়ে ‘পর’? সমাজকে সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা

ছেলে থাকবে বাপের কাছে, মেয়ে ‘পর’? সমাজকে সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা ছ ল থ কব ব প র - বিয়ের পর মেয়েদের বাবার পরিবারের সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে হবে কি?

Desk Bangladesh
Published June 25, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ছেলে থাকবে বাপের কাছে, মেয়ে ‘পর’? সমাজকে সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা

ছ ল থ কব ব প র – বিয়ের পর মেয়েদের বাবার পরিবারের সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে হবে কি? সেই ধারণাকে এবার সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আদালত জানিয়ে দিয়েছে—বিবাহিত মেয়েকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করতে হবে, কারণ পরিবার শুধুমাত্র ছেলে নয়, মেয়েও তার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টে একটি রায় ছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে মেয়েরা বিয়ের পর বাবার পরিবারের আওতায় পড়ে না। তার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন একজন মৃত রেশন ডিলারের মেয়ে। আদালতে মামলাটি পৌঁছতে পরিবারের সাথে সম্পর্কের অবসানের ধারণা কে প্রতিষ্ঠা করেছিল সমাজ।

বিয়ে হলেই মেয়ে বাবার উপর নির্ভরশীল থাকবে না, এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।

বিচারপতি পি.এস নারাসিমহা এবং বিচারপতি আলোক আরাধির বেঞ্চ বলেছেন যে বহু ক্ষেত্রে বিবাহিত মেয়েরা আরও বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। আদালত আরও জানায় যে ছেলেদের ক্ষেত্রে বিয়ের পরেও পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে সেই ধারণা সমাজে এখনও চালু রয়েছে। এটি লিঙ্গবৈষম্যকে আরও বলিষ্ঠ করেছে।

সুপ্রিম কোর্ট এই বৈষম্যমূলক ধারণাকে ভাঙা জরুরি বলে মনে করছে। তাই এই রায় শুধু আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। আদালত বলেছে যে সংসার সামলানো, সন্তান পালন এবং পরিবারের দায়িত্বগুলো একটি অর্থনৈতিক মূল্য সহকারে সম্পন্ন হয়। যদিও কোনও নির্দিষ্ট বেতন নির্ধারণ করা হয়নি, কিন্তু ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গৃহিণীদের মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি ধরে হিসাব করা হয়েছে।

এ কারণে আদালত বার্তা দিয়েছে যে গৃহিণীদের কাজ অদৃশ্য নয়, তাদের পরিশ্রমের সমান মূল্য রয়েছে। সমাজে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ সমাজে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিবাহিত মেয়েদের পরিবারের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, এবং গৃহিণীদের কাজ অবিচ্ছেদ্য বলে তুলে ধরা হয়েছে। এই দুই দিকে সমতার প্রশ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment