Bangladesh

স্বপ্নের গ্রিসের পথেই মৃত্যু, ভূমধ্যসাগরের গর্ভে ১৮ মরদেহ | সংবাদ

স্বপ্নের গ্রিসের পথেই মৃত্যু, ভূমধ্যসাগরের গর্ভে ১৮ মরদেহ ভূমধ্যসাগরের ছয় দিন লড়াই স বপ ন র গ র স - ভূমধ্যসাগরের গর্ভে পাচার কার্যক্রমে লিপ্ত হয়ে শেষ

Desk Bangladesh
Published June 17, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : John Brown - banglabeacon.com

স্বপ্নের গ্রিসের পথেই মৃত্যু, ভূমধ্যসাগরের গর্ভে ১৮ মরদেহ

ভূমধ্যসাগরের ছয় দিন লড়াই

Banglabeacon.com – স বপ ন র গ র স – ভূমধ্যসাগরের গর্ভে পাচার কার্যক্রমে লিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষুধা আর তৃষ্ণার শিকার হয়েছিলেন মাসুম ও তার সহপ্রাণীদের। সমুদ্রের অতল গর্ভে মৃত্যু ঘটে মাসুমের মতো আরও ১৭ জন বাংলাদেশি। ছয় দিন বৃষ্টি বা আবহাওয়া প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের লড়াই চলেছিল। সেই আতঙ্কে একের পর এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের খাবার আর পানির কোনো পরিচয় ছিল না। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে শক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছিল। ডাক্তার ও ওষুধ না থাকায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে ছয় দিনের পর। উদ্ধার করা হয় এক যাত্রী কর্মী মুখে জানান, “আমরা চিৎকার করেছিলাম, কিন্তু ওপারে কেউ ছিল না।” অজানা সমুদ্রের ছায়া আর শুধু মৃত্যু ছিল তাদের জন্য।

আমাদের শেষ সম্বলটা বিক্রি করে ওকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। ও বলেছিল, ফিরে এসে আমাদের ভালো রাখবে।

মাসুমের বাবা আর মা পরিবারের সব সম্বল বিক্রি করে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রিস পৌঁছানোর জন্য প্রথমে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু গ্রামে ফিরে আসার আগে মাসুমকে সে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারেন নি। কারণ একটি নৌযান থেকে প্রাণহানির মুখে পড়ে ছয় দিনের পর গ্রামে ফিরে এসেছিল মাসুমের সংবাদ।

আত্মীয়স্বজন আর বাড়ির কর্মীরা যুক্ত হয়েছিলেন

আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের মানুষ সবাই শোকের ছায়ায় একত্রিত হয়েছিল। কান্নায় ভেসে যায় গোটা গ্রাম। পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ মানবপাচার বন্ধ করার প্রতি কোনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি বলে তাদের স্মৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষতি বৃদ্ধি করতে হবে না আরও কয়েকটি প্রাণহানির কারণে।

মোহাম্মদ মিকাইল ইসলাম (৫২) এ ঘটনায় সিআইডির টিএইচবি ইউনিটের কাছে গ্রেপ্তার হন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তি ছাড়া তার নিরীহ মানুষদের ছুটি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিআইডি জনসাধারণকে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।

মাসুম ও তার সহপ্রাণীদের পরিবার শোকে সব কিছু বিস্তীর্ণ জলরাশির মধ্যে হারিয়ে যায়। তাদের জন্য সংসারের অভাব মোকাবেলার আশায় অসাধারণ মৃত্যুর পর তাদের পরিবার শোকের ছায়ায় বন্ধ হয়ে যায়।

Leave a Comment