সিজারিয়ানে খাদ্যনালী ক্ষতের দাবি: ঢামেকে মুমূর্ষু ২৩ বছর বয়সী প্রসূতি
Banglabeacon.com – স জ র খ দ যন ল – নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি ছোট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগে এলাকা এখন চাঞ্চল্যে ডুবে আছে। চিকিৎসার অবহেলা ও ভুলের ফলে শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়া ২৩ বছর বয়সী সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার পরিবারের দাবি, অপারেশন চলাকালে অসাবধানতাবশত খাদ্যনালী ক্ষত হওয়ায় খাবারের অংশ পেটের ভেতরে জমে সংক্রমণ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার ধারা: ভর্তি থেকে মুমূর্ষু অবস্থা পর্যন্ত
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট সকাল সাতটার দিকে নবমাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মদনপুরের ‘মা হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সকাল দশটার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর, সকাল এগারোটা দশ মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
তবে অপারেশনের পরপরই সমস্যা শুরু হয় বলে পরিবারের দাবি। প্রসূতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়নি; তাকে সাধারণ বেডে বসানো হয়। এরপর থেকেই পেটে তীব্র ব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। স্বজনরা একাধিকবার চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তা ‘গ্যাসের সমস্যা’ বলে উপেক্ষা করা হয়। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়াই ছিল চিকিৎসার সীমা।
চার দিন পর, ১৩ আগস্ট সকালে সিনথিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়াপত্র দেওয়া হয়। তখন স্বজনদের বলা হয়, বাথরুম ব্যবহার করলে পেটের ফোলা কমে যাবে। কিন্তু ওই দিন রাত এগারোটার দিকে পেটের ব্যথা অসহনীয় আকার ধারণ করে। রাত একটার দিকে তাকে পুনরায় ‘মা হাসপাতালে’ নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হওয়ায় স্বামী মো. মাসুম (৩১) তাকে দ্রুত ঢামেকে নিয়ে যান।
ঢামেকে মেডিকেল বোর্ড ও দুটি অস্ত্রোপচার
ঢামেকের চিকিৎসকরা প্রথম দেখাতেই অবস্থা আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের দাবি, ঢামেকের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত খাদ্যনালী ক্ষত হয়েছে। এর ফলে খাবারের অংশ পেটের ভেতরে জমে সংক্রমণ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিনথিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
অভিযোগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ‘মা হাসপাতাল’-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চার জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের আরও দাবি, ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়া দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ভুল চিকিৎসা বা খাদ্যনালী ক্ষতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ‘মা হাসপাতাল’-এর পরিচালক রুহুল আমিন। তার বক্তব্য:
আমাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। রোগী চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাসি ফিরেছিলেন। এরপর বাসি ফেরার পথে কিংবা বাসিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা আমাদের জানা নেই।
রুহুল আমিন আরও দাবি করেন, রাতে রোগীকে পুনরায় হাসপাতালে আনা হলে দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণের কারণে পেট ফুলে থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, রোগীকেই ঢামেকে পাঠানো হয়েছে। ঢামেকে কোনো সংক্রমণ থাকলে তার দায় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন হাসপাতাল পরিচালক। তবে রোগীকে পুনরায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে এলে যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করে সুস্থ করার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বড় হাসপাতাল সংখ্যা সীমিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষেরা ছোট-মাঝারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ভর করে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি সিজারিয়ান অপারেশনের পর এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। সিজারিয়ান অপারেশন সাধারণত নিরাপদ হলেও, অপারেশন চলাকালে আশেপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি — বিশেষ করে খাদ্যনালী বা মূত্রনালীর ক্ষত — বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা হিসেবে চিকিৎসা সাহিত্যে নথিভুক্ত। খাদ্যনালী ক্ষতের পর খাবারের অংশ পেটের ভেতরে জমা হলে দ্রুত সংক্রমণ ও সেপসিসের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর মধ্যে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ঢামেকে সিনথিয়ার চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় তদন্তের ফলাফল কী রূপ নেবে, তা নিয়ে এলাকা এখন উদ্বিগ্ন অপেক্ষায়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স জ র খ দ যন ল?
স জ র খ দ যন ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স জ র খ দ যন ল matter?
স জ র খ দ যন ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
