প্রবীণ কর আইনজীবী ও লেখক কাজী গোলাম মাইন উদ্দীনের জীবনাবসান
Banglabeacon.com – প রব ণ কর আইনজ ব ক – ফেনীর আইনাঙ্গন, সামাজিক সংগঠন ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা প্রবীণ আয়কর আইনজীবী কাজী গোলাম মাইন উদ্দীন আর নেই। ৯৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার, ২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং ফেনীর বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শোক নেমে এসেছে।
মরহুম কাজী গোলাম মাইন উদ্দীন ছিলেন পেশায় আয়কর উপদেষ্টা ও কর আইনজীবী; পাশাপাশি তিনি কবিতা লিখতেন এবং ভ্রমণভিত্তিক লেখালেখিতেও আগ্রহী ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর-সংক্রান্ত পেশাজীবীদের সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
ঢাকা ও ফেনীতে জানাজা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার, ৩ অক্টোবর বাদ ফজর ঢাকার আফতাবনগরের এইচ ব্লকের বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ ফেনীতে নেওয়া হয়। বাদ জোহর মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়ে, দুই ভাবি, তিন বোন, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে তানভীর আলাদিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। অপর ছেলে কাজী ফয়সাল আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্ত্রী সাকিনা আহমেদ চৌধুরাণী প্রায় এক দশক আগে মৃত্যুবরণ করেন।
মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে জন্ম ও শিক্ষাজীবন
কাজী গোলাম মাইন উদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী সদর উপজেলার মাথিয়ারা কাজী বাড়িতে। তাঁর পিতা কাজী আলী নোয়াজ ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষে পরিচিত ‘কাজী কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর স্বত্বাধিকারী। মা ছিলেন জায়েদা খাতুন। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান।
শিক্ষাজীবনের শুরু ও বেড়ে ওঠা ফেনীকেন্দ্রিক হলেও তাঁর কর্মপরিধি পরে বিস্তৃত হয় পেশাজীবী ও সামাজিক অঙ্গনে। ১৯৫০ সালে তিনি ফেনী হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। এরপর ফেনী কলেজে পড়াশোনা করে আইকম ও বিকম ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়ালেখা শেষ করে শুরুতে তিনি পৈতৃক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
পরবর্তীকালে নিজের পেশাগত পথ নির্ধারণ করে ১৯৬১ সালে আয়কর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় থেকে বহু বছর ধরে কর-আইনবিষয়ক পেশায় তাঁর উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। করদাতা, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য আয়করসংক্রান্ত বিষয় বোঝা ও নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণে অভিজ্ঞ পরামর্শকের ভূমিকা বিশেষ প্রয়োজনীয়। এই পেশাগত ক্ষেত্রেই তিনি দীর্ঘ সময় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
কর আইনজীবী সমিতিতে নেতৃত্ব
ফেনী জেলা কর আইনজীবী সমিতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। তিনি একাধিক মেয়াদে সংগঠনটির সম্পাদক এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইনগত বিষয় নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সহকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
একজন কর আইনজীবীর পেশাগত পরিচয় কেবল ব্যক্তিগত কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সীমিত নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও নাগরিকের আর্থিক দায়বদ্ধতার নানা বিষয় যুক্ত থাকে। কাজী গোলাম মাইন উদ্দীন এ ক্ষেত্রটিতে ছয় দশকেরও বেশি সময় সক্রিয় থেকে ফেনীর পেশাজীবী সমাজে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড
আইন পেশার বাইরে নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি লায়ন্স ক্লাব ফেনীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী ‘ল’ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও তিনি অন্যতম সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখেন। আইনশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় তাঁর অংশগ্রহণ তাঁর পেশার প্রতি দায়বদ্ধতারই পরিচয় বহন করে।
তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন। মানবিক সহায়তা ও সেবামূলক কার্যক্রমে কাজ করা এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সংযোগ সামাজিক দায়িত্ববোধের আরেকটি দিক তুলে ধরে। নিজ এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরেও তিনি সক্রিয় ছিলেন; মাথিয়ারা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন ছিল বহুমাত্রিক। পেশাগত সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেবামূলক সংস্থা এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে তিনি ফেনীর বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন।
কবিতা, ভ্রমণ ও বইয়ের জগৎ
কাজী গোলাম মাইন উদ্দীন শুধু আইনজীবী বা সংগঠক নন, তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও লেখক। ভ্রমণের প্রতি তাঁর আগ্রহ লেখালেখিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। পেশাজীবনের ব্যস্ততার বাইরে সাহিত্যচর্চার এ ধারা তাঁর ব্যক্তিত্বকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল।
তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ডাক্তারের ঘোড়ার ডাক, তাসের ঘরে মাধবীলতা, খাজু উকিলের ডায়েরি এবং ইউরেকা আমার আমেরিকা। শিরোনামগুলোতে যেমন বৈচিত্র্যের আভাস পাওয়া যায়, তেমনি তাঁর সাহিত্য ও ভ্রমণপ্রীতির পরিচয়ও মেলে। আইনপেশার অভিজ্ঞতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভিন্ন ভিন্ন স্থান দেখার আগ্রহ তাঁর লেখকসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে ফেনী হারাল এমন একজন মানুষকে, যিনি কর্মজীবন, সংগঠন, সমাজসেবা ও সৃজনশীল চর্চাকে একসঙ্গে ধারণ করেছিলেন। তাঁর পেশাগত অবদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রকাশিত রচনাগুলোই আগামী দিনে তাঁর কর্মময় জীবনের স্মারক হয়ে থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প রব ণ কর আইনজ ব ক?
প রব ণ কর আইনজ ব ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প রব ণ কর আইনজ ব ক matter?
প রব ণ কর আইনজ ব ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
