বিদেশে কর্মী প্রেরণের পরিকল্পনা প্রস্তুত
ব দ শ ১ ক ট দক – প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঘোষণা করেছেন যে সরকার আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্য নিয়েছে। তিনি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
শ্রমবাজার সুসংহতকরণের প্রচেষ্টা
মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সুসংহত করা, প্রসার করা ও সংরক্ষণ করা লক্ষ্যে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চলছে। এজন্য সংসদের বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি মারিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট চালু রয়েছে। এগুলো মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী শর্তাবলী ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
“বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফরম (ওইপি) চালু করা হয়েছে। এটি দালাল ও সাব-এজেন্টদের দৌরাত্ম্য হ্রাসে সহায়তা করবে এবং কর্মীদের ভাষাগত সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করবে।”
বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি এমপি জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন যে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং দালাল চক্রের প্রতারণা দূর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনি কাঠামো গঠনের প্রস্তাব
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে সরকার আইনি কাঠামোর আওতায় রিক্রুটিং এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করছে। এ আইন নামকরণ করা হয়েছে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ বিধিমালা, ২০২৫।’
অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে অভিবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও উপজেলা স্তরে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এগুলো সরাসরি কর্মীদের ডিমান্ড লেটার, ভিসা সত্যায়ন ও বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করতে সহায়তা করবে।
পূর্বে সংসদের বৈঠক স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয়। নওগাঁ-৫ আসনের বিএনপি এমপি মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আবারও বলেন যে কর্মী প্রেরণের প্রক্রিয়ায় দালাল ও সাব-এজেন্টদের অতিরঞ্জন কমেছে।