বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফিরল ২৩ কিশোরী
ব য় র প ড় থ ক – বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী ২৩টি কিশোরী। এই কিশোরীদের পিতা-মাতার হাতে বিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ তাদের সুরক্ষা করেছে। গত কয়েক মাসে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলার ১৪টি দুর্গম চরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য আইনি সহায়তা কমিটি এবং স্কুল ওয়াচ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেয়ার আলগা চরে সংস্থাটি আইনি কেন্দ্র পরিচালনা করছে। চরে কোনো কিশোরী বিয়ে হলে পরিবারের সদস্যদের সচেতন করে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
প্রতিরোধের কাজে সংস্থার ভূমিকা
ফ্রেন্ডশিপ সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন প্রবণ এবং দারিদ্র্যপীড়িত এই অঞ্চলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য আইনি সহায়তা কমিটি এবং স্কুল ওয়াচ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কাজে পরিবারের প্রতিক্রিয়া প্রথম দিকে বিরোধী ছিল, কিন্তু সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষা বৃদ্ধির পরিকল্পনা পরিবারকে অবিশ্বাস করতে বাধা দিয়েছে। কমিটির কাজ কিশোরীদের স্কুলে ফিরে পড়াশোনা করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই উদ্যোগের ফলে বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফিরেছে কিশোরীদের মধ্যে কয়েকজন নিজের স্বাধীনতা চাওয়া শুরু করেছে। এই কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে আইনি কেন্দ্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
আগে হাইস্কুল দূরে থাকায় ভয়ে মেঝ মেয়েকে অষ্টম শ্রেণিতেই বিয়ে দিয়েছিলাম। এখন আইনি কেন্দ্রের উপদেশে ভুল বুঝতে পেরেছি। ছোট মেয়েকে শহরে পাঠিয়ে পড়াচ্ছি।
স্কুলে ফিরে কিশোরীদের নতুন সূর্যোদয়
বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফিরেছেন আদুরী আক্তার, স্বপ্না খাতুন, নিলুফা আক্তার ও মারুফা আক্তার এর মতো ২৩ জন কিশোরী। তাদের মধ্যে একজন কিশোরী বলেন, বিয়ে হয়ে গেলে আমার জীবনটা সেখানেই থমকে যেত। এখন আমি বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। কমিটির কাজ কিশোরীদের স্কুলে ফিরে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েছে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করেছে। ফ্রেন্ডশিপ সংস্থার পরিচালিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে আইনি সহায়তা কমিটি পরিবারের সদস্যদের সচেতন করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সফলতা প্রাপ্ত হচ্ছে।
বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফির