বরিশালে মহাসড়ক দখলে তীব্র যানজট বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের অবৈধ উপস্থিতি
বর শ ল র চ ম থ – বরিশাল নগরীর চৌমাথা লেকপাড় এলাকার বাজার হকারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়ক দখলের উৎসব অবিরত চলছে। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে সড়কের একটি অংশ দখল করে কমপক্ষে অর্ধশত হকার ও ব্যবসায়ী অবস্থান করছেন। এতে সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়ক অবৈধ দখলে ভোগান্তিত হয়েছে, যা কখনো কখনো নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
চৌমাথা বাজারের সামনে মহাসড়কের একপাশে মাছ, মুরগি, সবজি ও নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকান সাজানো হয়েছে। সড়কে পণ্য স্থাপন করায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কাজিপাড়া থেকে সিঅ্যান্ডবি পুল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টদের মুখে হিমশিম খাচ্ছে।
“হকাররা আগে লেকপাড়ে বসত। সেখান থেকে উচ্ছেদের পর তারা এখন মূল সড়কে পণ্য বিক্রি করছে। মহাসড়কের পাশে বড় বাজার থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক স্থায়ী ব্যবসায়ী বলেন, সড়কে বসা ব্যবসায়ীদের কোনো দোকান ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। ফলে তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন, যা বাজারের ভেতরের ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার শিরিন নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে হকার উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করেছেন। হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে চৌমাথা লেকপাড়ের হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে স্থায়ী দোকান থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ভাড়া করে মহাসড়কের ওপর পণ্য বিক্রি করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেকপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া কিছু ভাসমান হকার। অভিযোগ রয়েছে কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ইজারাদারের যোগসাজশে সড়কে অবৈধ বাণিজ্য বাড়ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রেজাউল বারী বলেন, বিষয়টি প্রশাসকের নজরে আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এলে চৌমাথা এলাকার সড়ক দখল ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নগরবাসী মনে করছেন, লেকপাড় দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকার সৌন্দর্য বেড়েছে। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে মহাসড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।