News

গো-খাদ্য সংকটে গরু বেচে দিচ্ছেন হাওরের খামারিরা

Techtaranga.com_17788518846275

গো-খাদ্য সংকটে গরু বেচে দিচ্ছেন হাওরের খামারিরা

Banglabeacon.com – গ খ দ য স কট গর – সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান হারানোর পর গবাদিপশু নিয়ে চরম কষ্ট অভিজ্ঞ হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তারা পর্যাপ্ত খড় সংগ্রহ করতে পারেননি এবং সংগৃহীত খড় পচে যাওয়ায় গো-খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

বোরো ধানের খড় থেকে গো-খাদ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ জোগান আসে। কিন্তু এবার ধান তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক প্রয়োজনীয় খড় সংগ্রহ করতে পারেননি। কিছু জমি থেকে ধান কোনোমতে কেটে আনা হয়েছে, তবে জলের কারণে সেই খড় শুকাতে না পেরে পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

“দেখার হাওরে ফসল জলাবদ্ধতায় সবার আগে তলিয়ে গেছে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেও এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এখন গরু-বাছুর নিয়ে মহাবিপদে আছি। ধানের সাথে খড়ও পচে গেছে। খড় ছাড়া গরু বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে।”

সুনামগঞ্জে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। প্রতি বছর জেলায় ২ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন খড় উৎপাদন হয়, যার মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এ বছর ১৯৩টি হাওরে বোরো আবাদ হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে খড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

“কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ খড় সংগ্রহ করা না গেলেও কৃষকরা ভুসি, ধানের গুঁড়া ও খেসারির মতো খাদ্য ব্যবহার করতে পারেন।”

বর্তমান বাজারদরে এসব বিকল্প খাদ্য কিনে গরু পালন করা প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে অসম্ভব। সদর উপজেলার জানিগাঁও গ্রামে কৃষক সমছু মিয়া জানান, তার ৯টি গরুর জন্য প্রতি বছর যে পরিমাণ খড় লাগত, এবার তার অর্ধেকও সংগ্রহ করা যায়নি।

হাওরাঞ্চলে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও গো-খাদ্য সংস্থানের দাবি জনান। এটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে জেলার কয়েক লাখ খামারি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *