নাঈমকে হেনস্তার জেরে মামলা: তিন পুলিশ সদস্য ক্লোজড
ক র ক ট র ন ঈমক – সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ক্রিকেটার নাঈম হাসান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘুরছিলেন। টোল প্লাজা এলাকায় তিনি গাড়ি থামিয়ে পরিচয় দেওয়ার পরও সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নাঈম বলেন, “আমি ভেবেছিলাম নিয়মিত তল্লাশি হচ্ছে। কিন্তু পরে কোনো কারণ না জানিয়েই আমাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরিচয় দেওয়ার পর তাদের জানানো হয়েছিল যে নাঈম জাতীয় দলের ক্রিকেটার, কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়ার পর দায়িত্বে থাকা একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তার গলা চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে চোরাচালান সংক্রান্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিক নাঈমকে থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি তাকে আগে জানানো হয়নি।” চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, “চোরাচালান-সংক্রান্ত একটি অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা চলছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জেরে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে হেনস্তার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।