নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ
ন র ও শ শ ন র – হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি স্বাক্ষরিত একটি গঠনবিধির মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন বিষয়ক মামলাগুলির ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চটি শিশু রামিসা হত্যা মামলার আপিল শুনানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ শুরু হবে। এই বেঞ্চ শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং সম্পর্কিত আপিলগুলি শুনানোর জন্য অগ্রাধিকার দেবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতনের মত স্পর্শকাতর মামলাগুলির আপিলের দীর্ঘ বিলম্ব আর দীর্ঘ সময়ের অবসান ঘটবে এই উদ্যোগের ফলে।”
“অতি সম্প্রতি সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে নির্মম হত্যাকাণ্ড—শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের যে মামলা, তার রায় আজকে প্রকাশিত হয়েছে, ঘোষিত হয়েছে নিম্ন আদালত কর্তৃক এবং দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
গত ৭ জুন ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করার আদেশ জারি করা হয়।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত থেকে রায় ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র হাইকোর্টে আসে। ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর অনুমোদনের জন্য আপিল ও আবেদন সাধারণত একত্রে শুনানো হয়।