রোদের ডানায় ভেসে
র দ র ড ন য় ভ – সকালের নরম নিরুত্তাপ সূর্যালোক জানালার গাঢ় ফাঁক দিয়ে মোমের আলোর মতো গলে আলতো করে লাইজুর মুখের ওপর ছুঁয়ে পড়ল। কিন্তু তার বন্ধ দুই চোখের কালো পাপড়ি তখন কোনো উত্থান ঘটায় না। কেবল কিছুক্ষণ তার ঘুম দুর্গম থেকে বেরিয়ে আসে না, যেন সে এক নিদ্রিত রাজকুমারী যার জাদুকরী অভিশাপ এখনও বিস্তারিত হয়নি।
আবারো সেই সূর্যালোক এসে বিলকিসের শ্যামল পায়ে গোড়ালীতে বিচরণ করল। তিন বছর বয়স্ক ঘুমন্ত মিথিলার কাছে তাকিয়ে এনামুল নাকে একটু বিশ্রাম করে বসলো। কিন্তু এমন কিছু করে না সে যেন স্বামী রেগে যায়। তার সাদা শার্ট কালো প্যান্ট সাজিয়ে দাঁড়ানো সে যখন যায়, তখন কে বলবে সে চাইনিজ রেস্তোরাঁর ওয়েটার নয়!
বিলকিস হাজারিবাগের কামরায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ফারুকের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা মিথিলার পাশে ঘুমন্ত রাগ উঠলে কেন জানি বেডার হুঁশ থাকে না। কিন্তু তার কোমর থেকে সকালের শুরু হওয়া কষ্টে নারীর স্বাভাবিক দুঃশ্চিন্তার কপালে একটা গাঢ় ভাঁজ তার চোখে ছড়িয়ে পড়ল।
মনে হয় যেন সেই মালিক এবার সূর্যের বয়স আরেকটু বাড়লে তার পিছনে এসে আলো ঝলমলে কিশোরীর মতো এক্কা দোক্কা খেলে সবুজ সে ঝাড়ু আর বালতি নিয়ে রুমগুলো ঝাড়পোঁছ করতে আসে। এক সাধারণ ঘিঞ্জি রংহীন সস্তা হোটেল, একতলা দোতলা মিলিয়ে মাত্র ৮টা রুম রয়েছে। ফাঁকা ঘরগুলো সবুজ কাজ করে দরজার কপাটে ধাক্কা দিল। মনে হচ্ছে কেউ একজন বিছানায় বাঁকা হয়ে অদ্ভুত ভঙ্গীতে শুয়ে আছে। সম্ভবত একজন নারী যার শাড়ির কমলা আঁচল মেঝেতে লুটাচ্ছে।
জাগানোর চেষ্টা
দরজার নিচে সকালের চঞ্চল রোদ হুটোপুটি খাচ্ছে। সবুজ নিজেও হাতে একটা কৌটা নামিয়ে মেয়ের হাতে দুটো বিস্কুট দেয়। নিজে খায়। তাকে খুব উৎকণ্ঠিত ও আনমনা দেখায়।
ক্ষিদা লাগছে?
আবার মোবাইল ফোনটা তুলে হাতে নেয় এনামুল। এবার ওই পাশে রিং হতে থাকে, এনামুল কানে ফোন চেপে অপেক্ষা করে। ফোনটা এবার কেউ ধরে, “হ্যালো লাইজু, কই তুই? অহনো বাইত আইলি না যে! চিন্তায় ফালায়া দিছোছ আমাগো, ফোনও দি ধরোছ ন