ফুলের সুবাসে অপরাধ জয়ের অনন্য চেষ্টা
ফুলগাছ চুরির পর গ্রামকে সুবাসিত করার অদ্ভুত প্রতিশোধ
ফ ল র স ব স অপর – ফুলের গাছ চুরি করা হলে মানুষ সাধারণত ক্ষুব্ধ হন বা থানায় অভিযোগ জানান। তবে সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে বাসিন্দা শামীম আহমেদ নিজের বাবার কবরের ওপর রোপণ করা ফুলগাছ চুরি হওয়ার পর বিভিন্ন পথে কাজ করেছেন। তিনি চোর ধরতে না নেমে গ্রামটিকে পুরোপুরি সুবাসিত করার মিশনে নেমে পড়েন।
শামীম আহমেদ পরিবারের মমতায় হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী ফুলের চারা বাবার ও দাদির কবরের পাশে রোপণ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে গাছগুলো ফুলে ভরে ওঠে। কিন্তু এক সকালে গেলে দেখেন গাছগুলো কে বা কারা উপড়ে নিয়েছে।
চুরির ঘটনায় বিমর্ষ হলেও শামীম ভাবলেন অন্য পথে কাজ করা যাবে। তিনি মনে করলেন যে গাছ নিয়ে চোর ফুল ভালোবাসে। তাই তিনি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির সামনে ৩টি ফুলের চারা রোপণের পরিকল্পনা করেন। শেষ পর্যন্ত তার নিজের জমানো টাকা থেকে শ্রমিক নিয়ে সেই কাজ করেন।
অপরাধের জবাবে সুন্দর উদ্যোগ সচরাচর দেখা যায় না। শামীমের এই ব্যতিক্রমী প্রতিশোধ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে চলছে। তিনি আশা করছেন যে কয়েক মাস পর দেড় হাজার গাছে একসাথে ফুল ফুটবে এবং পুরো এলাকা সুগন্ধে ভরে ওঠবে।
“এই গাছগুলোর কোনো একটি হয়তো সেই চোরের বাড়িতেও গেছে। গাছ দেখে যদি চোরের মনে অনুশোচনা জাগে, তবেই তিনি সফল।”
সামাজিক মাধ্যমে শামীমের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে পুরো সদরপুর উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করার স্বপ্ন দেখছেন। গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে তিনি ৫০০টি বাড়ির প্রতিটির সামনে ফুলের চারা রোপণ করেছেন।
তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি গাছগুলো নিয়েছে সে নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে। তাই আমি তার মতো অন্যদের আরও ফুল দিতে চাই।” শামীমের এই স্মৃতিবিজড়িত ফুলগুলো গ্রামের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে।