তামাকের নীল বিষে বিপন্ন তারুণ্য
ত ম ক র ন ল ব – ৩১ মে পালিত হয়েছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। প্রতিবছর মতো এবারও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এই দিবস উদযাপন করেছে। এবারের উপলক্ষে প্রস্তাবিত হয়েছে ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ হুমকি।
তামাক এক মৃত্যুদূত
তামাক ব্যবহারের সংখ্যা সম্পর্কে পরিসংখ্যানের ভয়ানক চিত্র আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে। দেশে দুই ধরনের তামাক ব্যবহার হচ্ছে—ধোঁয়াযুক্ত ও ধোঁয়াবিহীন। এই স্বাদ বিপর্যয় সমাজের সর্বস্তরে বিষ ছড়াচ্ছে।
একটি জ্বলন্ত কাঠি, এক টুকরো সাদা কাগজ, আর তার ভেতরে মোড়ানো কিছু শুকনো পাতা—এই ছোট ছদ্মবেশ দ্বারা এক বড় মৃত্যুদূত তারুণ্যকে অপেক্ষাকৃত বিপন্ন করছে।
তামাক আজ একটি সাধারণ নেশা হতে পারে না। এটি বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় আনতে শুরু করেছে। এতে নিকোটিন, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, বেনজোপাইরিন, ফরমালডিহাইড, অ্যামোনিয়া এবং পোলোনিয়ামের মতো বিপজ্জনক পদার্থ রয়েছে। আমাদের দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করছে। তামাক চাষ করে সম্পন্ন হয়েছে যে খাদ্য উৎপাদনের উর্বর জমি হ্রাস পেয়েছে। নদীর দু ধারে এর ফলে পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তাও বিপন্ন হয়েছে। তামাক চাষের জন্য ব্যাপক রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এই বিষাক্ত পদার্থ প্রবাহিত হয়ে নদী দূষিত করছে। যার ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। মাত্র এক টন তামাক পাতা শুকাতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৫ টন জ্বালানি কাঠ। নির্বিচারে গাছপালা কাটা হচ্ছে যার ফলে বনাঞ্চল বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
যারা নিজেরা ধূমপান করেন না, তারাও প্রতিদিন পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। এতে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, যক্ষ্মা এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি হচ্ছে। অনেক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা ছাড়া হচ্ছে নিরপরাধ অধূমপায়ীদের।
তামাক একটি কৃষিজাত পণ্য। আদি উৎস সুদূর আমেরিকা হলেও এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে তামাক ব্যবহারের ব্যাপকতা চোখ কপালে তোলার মতো। কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন পরোক্ষ ধূমপানে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ শিকার হচ্ছেন।
তামাক মানুষের শরীর ধ্বংস করছে না, এটি গ্রাস করছে প্রকৃতি ও অর্থনীতিকেও। খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ক