ঈদে সম্প্রদায় বন্ধন
ঈদ গ র ম মহ ম লন – ঈদের আয়োজনের দুটি পরিচয় বাংলাদেশে প্রকাশ পেয়েছে। একটি গ্রাম, অন্যটি শহর। গ্রামে ভোর থেকে চলে আত্মীয়ের আগমন, খোলা মাঠে পাড়ার সবাই কোরবানি প্রস্তুত করে। শহরে যেখানে কোরবানি প্রস্তুত করা জন্য ব্যস্ত সময়সূচি ও ফ্ল্যাটের গ্যারেজ পরিস্রাব বাড়ে, আর বিড়ম্বনা যেমন কোরবানির পশু আনতে মাইক্রোবাস ভাড়া করা।
গ্রামে বন্ধনের প্রকাশ
গ্রামে কোরবানি যে একটি অনুষ্ঠান, সেটি এক ইতিহাসে গড়ে উঠেছে। সারা বছর ধরে লালন-পালন করা পশুকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার আচার প্রজন্মে ধরে চলে আসছে। গোয়াল ঘর থেকে পশু বের করার সময় শিশু-কিশোরদের চোখেমুখে থাকে মায়া ও উৎসবের আমেজ। গরুর পিঠে চড়ে বেড়ানো গ্রামের শিশুদের জন্য ঈদের অনন্য প্রাপ্তি। পাড়ার ২০-৩০টি পরিবার মিলে একটি বা দুটি গরু কোরবানি দেয়।
মানুষ আদিম সমাজে দল বেঁধে শিকার করত, মাংস ভাগ করত। গ্রামের কোরবানির আয়োজন সেই আদিম বন্ধনের কাছাকাছি।
শহরে সামাজিক বন্ধনের পরিবর্তন
শহরে ঈদ এলেই মানুষ ছুটে যান পশুর হাটে। কেউ ছবি দেখে বেছে নেন গরু, অনেকে নিজেরাই কোরবানি দিয়ে ফ্রিজ ভর্তি করে রাখেন অন্য মাসের জন্য। ফ্ল্যাটের গ্যারেজ বা ফাঁকা জায়গায় কোরবানি আয়োজন হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পেশাদার কসাই ডেকে আনা হয়।
মাংস ভাগাভাগির সময় সীমিত হয়ে পড়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি গরমিল। শহরের সময়সূচি যেমন ব্যস্ত, তেমনি আত্মীয়-আগমনও সীমিত। নানা ব্যস্ততায় অনেকে প্রিয়জনের বাড়ি যেতে পারেন না। তাই অনেকে ভিডিও কলেই ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নগরায়নের ধারায় মানুষের সামাজিক আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। গ্রামের উন্মুক্ত আয়োজন মানবমস্তিষ্কে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা বন্ধন ও আস্থা তৈরি করে। শহরের সীমাবদ্ধ পরিসর ও সময়ের চাপ সেই হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে।
তবু আশার কথা, ত্যাগ আর ভাগের মূলবাণী এখনো দুই জায়গাতে সমানভাবে টিকে আছে। ভিন্নতা থাকলেও একটি সত্য অম্লান- শহরবাসী গ্রামের বাড়ির জন্য ঈদেই প্রাণ টানে। ঈদের ছুটিতে গ্রামমুখী মানুষের ঢলই প্রমাণ করে যে শরীর শহরে থাকলেও মনটা আজও গ্রামের মাঠে দোল খায়।
গ্রামের খোলা আকাশ, পাড়ার সবাই মিলে আয়োজন, চুলার পোড়া মাংসের গন্ধ- এসব যেন চিরায়ত এক স্মৃতি বটে। শহর হয়তো সেই পুরো আমেজ দিতে পারে না,