News

ঈদযাত্রায় বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: ২৬ রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা | সংবাদ

ঈদযাত্রায় বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: ২৬ রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহ হয়েছে ঈদয ত র য ব স ম - ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাস মালিক

Desk News
Published May 28, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ঈদযাত্রায় বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: ২৬ রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সাড়ে ৫ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহ হয়েছে

ঈদয ত র য ব স ম – ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাস মালিক সমিতি দেশজুড়ে যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জায়গায় সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের উপর ভাড়া বৃদ্ধির চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, দেশের ২৬টি রুটে কয়েক দিনের মধ্যে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করছেন। আন্তঃজেলার যাত্রী সংখ্যা আরও প্রায় ৩ কোটি হতে পারে। এই ভাড়া বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাস চালক ও সহকারীরা মালিকপক্ষকে দায়ী করেছেন।

“আমাদের নির্দিষ্ট বেতন বা ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে বাধ্য হচ্ছি,” বলেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতি করে ৪০ আসনের ভাড়ার মান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বে যাত্রীদের কাছ থেকে শেষ গন্তব্যের পূর্ণ ভাড়া গ্রহণ করা হচ্ছে। এই ভাড়া লাগামহীন চিত্র দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে স্পষ্ট।

ঢাকা-খুলনা রুটে নির্ধারিত ৫৪১ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-বরিশাল রুটে নির্ধারিত ৫৯২ টাকা বর্তমানে ৮৫০ টাকা হিসাবে দেখা যাচ্ছে। সরকারি বিআরটিসির দুই তলার বাসেও নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় উপরে চাপ পড়ছে।

অন্যান্য রুটগুলো হলো ঢাকা-পটুয়াখালী (৫৭০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা), ঢাকা-শরীয়তপুর (২৩৩ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা), চট্টগ্রাম-বরগুনা (১ হাজার ১৯৭ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৮০০ টাকা), ঢাকা-মাদারীপুর (২৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা) রুটেও বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ফেনী ও কুমিল্লার বাস রুটগুলোতে একই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা দেখা গেছে।

সংগঠনটি এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সমাজে অস্থিরতা ও দুর্নীতির বৃদ্ধি হচ্ছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে বা পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গুরুতর পরিস্থিতি প্রতিরোধে করা হলো প্রস্তাব

যাত্রী কল্যাণ সমিতি পরিবহন প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় ও নগদ লেনদেন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে চালকদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ কার্যকর করা হবে। মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে ই-প্রসিকিউশন চালু করারও দাবি জানানো হয়েছে। ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার জন্য আরও জোর দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

Leave a Comment