গোমতীকন্যা
সংবাদ
গ মত কন য – গোমতী নদীর ধারে কুনো জাল ফেলে মাছ ধরতে উপুড় হয়ে আছে লাশটা। চেহারাটা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু আঁধারিয়া গ্রামের মধ্যপাড়ার রব্বান শেখ ছোট্ট নৌকাটা নিয়ে আসতে সে লাশটা চিনে ফেলল। চিৎকার করে বলে উঠল, “কেডা আছো গো, দেইখা যাও। লাশ পাওয়া গেছে গো…!”
নদীর পাড়ের একটি বাঁশের উঁচু কঞ্চিতে একটি দাঁড়কাক জলের দিকে ধ্যান করছে। সূর্য ভোরে আবার চালাকি করে উঁচু তালগাছটার গা বেয়ে উঠছে লাল গোলার মতো জ্বলজ্বল করে। নরম শীতল বাতাস দক্ষিণের দুয়ার ভেঙে শন শন শব্দ করছে। নদীর জল ও উত্তরের জোয়ারের জল মিলে কল কল করছে। সাধারণত এ সময় ডাহুক ডাকে না, কিন্তু এ মুহূর্তে ডাহুকের ডাক আসছে—কোয়াক কোয়াক, কোয়াক কোয়াক।
“কী পাওয়া গেছে, মাছ? কত বড়?”
রব্বান শেখ কারও সাড়া না পেয়ে আবার লাশটা দেখল। জলের ওপর দুলছে লাশটা দক্ষিণের কোড়ে ঘের দেওয়া কচুরিপানার ফাঁকে। হাত-পা এমনভাবে মেলে দেওয়া যে মনে হচ্ছে কোনো যুবতী মহিলা সাঁতার কাটতে কাটতে লাশ হয়েছে। পরনের শাড়িটা ঢেউয়ের দুলুনিতে একবার উরুর ওপর উঠছে, আরেকবার হাঁটুতে নেমে আসছে। চুলগুলো খোঁপা করা। জল গিলতে গিলতে লাশ ফুলে উঠে গায়ের ব্লাউজটা কেমন কামড়ে ধরেছে।
করিম মিয়া নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, “কও কী! হ, হ, দেইখা যাও।” করিম মিয়া কোড়ের ঘেরের কাছাকাছি নৌকাটা আনতেই লাশটার ওপর তার চোখে পড়ল। লাশ দেখেই সে আঁতকে উঠে বলল, “হায় মা বুদ!”
পরক্ষণই তার চোখ গিয়ে পড়ল লাশের উরু ও পরনের শাড়িটার সংযোগস্থলে। তার চোখ স্থির হয়ে গেল। রব্বান শেখ লাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “মনসুর পাগলার বউয়ের লাশ খুঁজতাছে। আর লাশটা ভাইসা উঠছে এইখানে, কোড়ের পাড়!”
করিম মিয়া দ্বিধা নিয়ে বলল, “আইচ্ছা, মানলাম এই লাশটা মনসুর পাগলার বউয়ের। কিন্তু মনসুর পাগলার বউ তো ডুবেছিল দুই দিন আগে উঠতি রাতে। এই সকালে যেমন গোমতী নদীটা বেশ শান্ত, সেদিন এমন শান্ত ছিল না। নদীর ঢেউ ছিল পাড় ভাঙা, খুঁটি পাড়ে।
রব্বান শেখ মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিয়ে বলল, “করিম ভাই, কথাডা তো তুমি ঠিক কইছ