মানুষ: পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়াবহ হিংস্র প্রাণী
ম ন ষ – মানুষের মানসিক স্বাভাবিকতা সম্পর্কে মনে করা হয় যে তারা সবসময় হিংস্র থাকে। গেল বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পাথর দিয়ে একজনকে হত্যার ঘটনায় কেউ কেউ মোবাইলে দৃশ্যটির শুধু ভিডিও করেছিল, হত্যাকারীকে কেউ থামায়নি। সেই ঘটনার মতো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, তা আমাদের সভ্যতার এক নতুন দর্পণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটেছে যা মানবতার সংজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে। এখন মানুষ হত্যা করে বা নির্যাতন করে অনুভব করা যায় যে তারা হিংস্রতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ানক পরিবর্তন হয়েছে। হিংস্রতা এখন বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হতে বাংলাদেশে ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
অতীতের হিংস্রতার বিবর্তন
লাখ লাখ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হোমো হ্যাবিলিস যখন আফ্রিকার জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত, তখন তাদের প্রতিদিনের যুদ্ধ ছিল বেঁচে থাকার জন্য। সিংহ, চিতাবাঘ, হায়েনা এসব প্রাণী মানুষকে ভয় দিত। ভয় থেকে আক্রমণ ছিল তাদের সর্বোপরি প্রয়োজনীয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। মনোবিজ্ঞানে এই প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট রেসপন্স’। মানুষের মনোবিজ্ঞানী পল ব্লুমের মতে মানুষের সহানুভূতি মূলত কাছের মানুষের জন্য কাজ করে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার বিপর্যয়ে তা এখন দূরের মানুষের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
২০১৯ সালে বরগুনায় মিন্নি-রিফাত হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে আলোড়িত করেছিল। দিনের বেলায় সবার সামনে পরিকল্পিতভাবে একজন মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা কেউ কেউ পালায়নি, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠান্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সরে পড়েছিল। এই ঘটনার মতো কয়েকটি প্রকাশ্যে সংঘটিত ঘটনা দেখে মানুষের প্রতি স্বাভাবিক সহানুভূতি ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতস্থানের প্রতিটি দৃশ্য আমাদের কাছে এখন শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ হিসেবে গৃহীত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি হিংস্রতার নতুন ক্ষমতা হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানের হিংস্রতার পরিচয়
২০২০ সালে নোয়াখালীতে এক নারীকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ভিডিও সারা দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। নির্যাতনকারীরা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, ভিডিও করে তা ছড়িয়েও দিয়েছিল। যেন সেটা কোনো গৌরবের কাজ। ক্ষতস্থানে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা আমাদের সংকটের এক প্রকার প্রমাণ। মানুষ যখন দৃশ্যটি প্রতিদিন অনলাইনে দেখে, তখন তারা কেবল শিকারি ও শিকারের ব্যবধান হিসেবে তাকে গ্রহণ করে। আধুনিক সভ্যতার বিরোধাভাস হলো উন্নতি ও পতন একসঙ্গে মানুষ চাঁদে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি হয়েছে, ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করছে, কিন্তু সেই �