হিজড়া মাহিকে পুড়িয়ে হত্যা : ভারতে পালানোর সময় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
হ জড় ম হ ক প ড় – কুমিল্লা জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য এনামুল হক শিশির ওরফে মাহিকে (৩৫ বছর বয়স) হাত-পা বেঁধে পেট্রল ঢেলে জ্বালানি দেওয়ার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা সীমান্ত এলাকায় প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির হিজড়াকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে জহির ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১টার পর কুমিল্লার র্যাব-১১ (সিপিসি-২) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয় যে গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সংলগ্ন বাসায় মাহিকে হাত-পা বেঁধে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর্তনাদে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করেন। তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক ও সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ ও র্যাব-৬ এর জ্যেঠো দল জহিরকে গ্রেপ্তার করে। তিনি স্বীকার করেছেন মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের সম্পর্কে পরিবারের মধ্যে বিরোধের ফলে মাহিকে হত্যার ঘটনায় তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।
জহির হিজড়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বিকেলে জহিরকে বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানান, জহির আগামীকাল বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নিহত মাহিকে বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। গত ১০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বসবাস করতেন। মাহির মৃত্যুর দিনই তার বাবা বুড়িচং থানায় তিনজন আসামির নাম উল্লেখসহ আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
র্যাব কর্মকর্তা মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, জহির হিজড়া নিজেই মাহির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আগামী দিনগুলি আদালতে হাজির হবেন।
মাহির মৃত্যু হয় গত ১৭ মে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।