অর্থনীতির লাশের ওপর রাজনীতির উৎসব
অর থন ত র ল শ র - বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘোষণায় শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে যে দেশ
Table of Contents
অর থন ত র ল শ: শ্রীলঙ্কার উত্থান আর বাংলাদেশের পতনের তুলনা
Banglabeacon.com – অর থন ত র ল শ র – বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘোষণায় শ্রীলঙ্কাকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে যে দেশ সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়েছিল, যার কাছে জ্বালানি তেল কেনার টাকা ছিল না, আর যেখানে রাতে শহর অন্ধকার হয়ে যেত, সেই শ্রীলঙ্কা এখন বিশ্বব্যাংকের সেই মানদণ্ডে উত্তরণ করেছে। মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চার ভাগে ভাগ করার এই পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কার এই অর্জন সত্যিই উল্লেখযোগ্য। এই প্রেক্ষাপটে অর থন ত র ল শ শব্দগুচ্ছটি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করে দেখা যায়।
২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, পর্যটন এবং আর্থিক সেবা খাতের সম্প্রসারণই এর পেছনের প্রধান চালিকা শক্তি। মাত্র তিন বছরে এমন বিপর্যয় থেকে উঠে আসা বিস্ময়কর। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে কলম্বোসহ কয়েকটি শহরের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে বোমা হামলায় ১৮৯ জন নিহত এবং ৪৫৯ জন আহত হয়েছিল। এরপরই করোনার আঘাত এসেছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য সব থমকে গেছে। সরকারের অব্যবস্থাপনা যোগ হয়ে ২০২২ সালে দেশটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নেমে আসে মাত্র ১.৯ বিলিয়ন ডলারে। মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
সেই সময়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের কাছেও ২০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল। কিন্তু আগের ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় বাংলাদেশ সাড়া দেয়নি। পৃথিবীর কেউই তখন পাশে দাঁড়ায়নি। করোনার পর পর্যটন আয় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। ২০২২ সালে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়। এই গর্ত থেকেই শ্রীলঙ্কা উঠে আসছে। কিন্তু কীভাবে? রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে পাশে রেখে অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে। আইএমএফের সঙ্গে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি, ঋণ পুনর্গঠন, পর্যটনে কর ছাড়, প্রবাসী আয় থেকে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা। ফলাফল হাতে নাতে। ২০২৩ সালে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ২.৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার পর্যটক এসেছে ২০ লাখের বেশি। রপ্তানি আয় বেড়েছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে। রিজার্ভও ১.৯ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বিপরীত গতিপথ
করোনা ও বিশ্বমন্দার মধ্যেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে ছিল। করোনার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৩.৮ শতাংশ হলেও পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো বিপর্যয় ছিল না। জাতিসংঘ তখনই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের চূড়ান্ত সনদ দেয়। রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ২৩ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও তখন আমাদের ছিল। কিন্তু এরপরই ছবিটা পাল্টে যায়।
মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে অর্থনীতিকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশোধের মঞ্চ বানিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার একপেশে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশজুড়ে মব সৃষ্টি, ভাঙচুর আর আইনের শাসনের কবর রচনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের মেশিনারি ব্যবহার হয়েছে প্রতিপক্ষ দমনে, উৎপাদন বাড়াতে নয়। ফল কী হলো? ১৮ মাসে বেসরকারি বিনিয়োগে ধস, নতুন শিল্পের অনুমোদন প্রায় শূন্য, ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট। এখানেই অর থন ত র ল শ এর প্রকৃত অর্থ ফুটে ওঠে।
রেমিট্যান্স ২০২৫ সালে ২৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু সেটা গেছে আমদানি ব্যয়, ঋণের কিস্তি আর জ্বালানি বিল পরিশোধে। তাই রেমিট্যান্স বাড়ালেও নিট রিজার্ভে টান পড়েছে। রপ্তানি আয়, এফডিআই, রাজস্ব আদায়, সব সূচকেই নিম্নগতি। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির আর কোনো খাতেই স্বস্তি নেই। এই ধ্বংসের দায় কেউ নেবে না।
অতীতের ঋণ আর বর্তমানের দায়িত্ব
অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের রাজত্বে অর্থনীতি একেবারে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা, প্রকল্প ব্যয়ে অনিয়ম, সুশাসনের ঘাটতি, এগুলো অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু এটাও সত্য, আওয়ামী লীগ আমলের মেগা প্রকল্পগুলো আজ দেশের মেরুদণ্ড। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুতের বড় বড় প্রকল্প না হলে ঢাকা যানজটে অচল হয়ে যেত, দেশ অন্ধকারে ডুবে যেত। সমস্যা ছিল বাস্তবায়ন আর ঋণের ব্যবস্থাপনার, প্রকল্পে নয়। ১৫ বছরের সমস্যা থাকার পরও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপির আকার ছিল ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
আসল ধাক্কাটা লেগেছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে, যখন নীতি-সিদ্ধান্তের অভাবে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। বিএনপি সরকারও সেই ১৮ মাসের কথা উচ্চারণ করছে না। তারা আরামে সব দায় চাপাচ্ছে ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের ওপর। আজকের নগ্ন সত্য এটাই। শ্রীলঙ্কা ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে উৎপাদনে ফিরেছে। আর বাংলাদেশ উৎপাদন ফেলে ধ্বংসস্তূপ বানাচ্ছে। একটি দেশ রাজনীতির চেয়ে পেটকে বড় করেছে। আরেকটি দেশ পেটের চেয়ে প্রতিহিংসাকে বড় করেছে।
যতদিন রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান আর বিনিয়োগের পরিবেশ না হয়ে প্রতিপক্ষ নিধন থাকে, ততদিন এই রক্তক্ষরণ থামবে না। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের অপরাধ থেকে শিক্ষা না নিলে এবং দায় স্বীকার না করলে এই পতন ঠেকানোর আর কোনো পথ থাকবে না। বিএনপিও ইউনূসের মতো প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই প্রশ্রয় অব্যাহত থাকলে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নতুন বাজেট কার্যকর হলে বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, আর তাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে।
শ্রীলঙ্কার সফল পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিশোধের রাজনীতি — দুটি দেশের দুটি ভিন্ন গল্প।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
শ্রীলঙ্কা কতদিনে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উঠে এসেছে? শ্রীলঙ্কা ২০২২ সালের দেউলিয়া ঘোষণার পর মাত্র তিন বছরে অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ করেছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন? রেমিট্যান্স বাড়লেও নিট রিজার্ভে টান পড়েছে। রপ্তানি আয়, এফডিআই, রাজস্ব আদায় সব সূচকেই নিম্নগতি। ১৮ মাসে বেসরকারি বিনিয়োগে ধস এসেছে।
অর থন ত র ল শ কী বোঝায়? এই শব্দগুচ্ছটি বোঝায় যে, অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপের ওপর রাজনৈতিক উৎসব চলছে। বাংলাদেশে উৎপাদন ফেলে রাজনৈতিক প্রতিশোধের রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে।
শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের কাছে কত ঋণ চেয়েছিল? সংকটের সময়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের কাছে ২০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল। কিন্তু আগের ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় বাংলাদেশ সাড়া দেয়নি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অর থন ত র ল শ র?
অর থন ত র ল শ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অর থন ত র ল শ র matter?
অর থন ত র ল শ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.