টার্মিনালে ভিড়ছে না এলএনজি, গ্যাস সংকটে হাহাকার
ট র ম ন ল ভ ড়ছ - মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বর্তমানে জাহাজ ভিড়তে পারছে না। এর ফলে আবারও চট্টগ্রাম শহর তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট)
Table of Contents
বৈরী আবহাওয়ায় এলএনজি জাহাজ ভিড়তে না পারায় চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট
Banglabeacon.com – ট র ম ন ল ভ ড়ছ – মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বর্তমানে জাহাজ ভিড়তে পারছে না। এর ফলে আবারও চট্টগ্রাম শহর তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। গৃহিনীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সময়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেক
সূত্রমতে, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে জাহাজটি নিরাপদে টার্মিনালে ভিড়তে পারলে সরবরাহ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে। এতে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বুধবার (১২ আগস্ট) সরবরাহ কমে ১৮০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
কারিগরি নয়, আবহাওয়াই প্রধান কারণ
কর্মকর্তারা আরও জানান, এবার মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সংকট তৈরি হয়নি। সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। নতুন করে আসা একটি এলএনজিবাহী জাহাজ প্রচণ্ড বাতাসের তোড়ে ভিড়তে পারছে না টার্মিনালে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) মো. শোয়েব জানান, এলএনজিবাহী জাহাজ নিরাপদে টার্মিনালে ভেড়ানোর জন্য বাতাসের গতিবেগ ২০ নটের নিচে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মহেশখালী এলাকার বাতাসের গতি প্রায় ৩৮ নট। এ অবস্থায় জাহাজ ভেড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বাসিন্দাদের ভোগান্তি
নগরীর শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার জানান, বুধবার সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় সারাদিন রান্না করতে পারেননি। বিকেল ৩টার দিকে কয়েক মিনিটের জন্য গ্যাস এলেও পরে আবার বন্ধ হয়ে যায়।
গত দুদিন ধরে রান্নাস গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত প্রায় ১ মাস যাবত তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
হাটহাজারী পৌরসভা সদরের গৃহিনী হাসিনা আক্তার বলেন, গত দুদিন ধরে রান্নাস গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন গত প্রায় ১ মাস যাবত তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
নতুন পাওয়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে থাকা অটোরিকশাচালক মো. মোজাম্মেল জানান, সকাল ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বিকেল পর্যন্ত গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পাননি। তার ভাষ্য, গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস ভরতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি সময় লাগছে।
সিএনজি চালকদের ভোগান্তি
হাটহাজারীর ফকিরবাড়ি এলাকার মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসি সৈয়দ জাহিদ বলেন, গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজি চালকরা ভাড়া কয়েকগুণ বেশি নিচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী তামান্না আক্তার বলেন, সকাল ৭টার পর থেকেই চুলায় আগুন নেই। ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ পর গ্যাস আসবে। কিন্তু কিছুই এলো না। হুটহাট এভাবে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া গ্যাস চলে গেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের চলাটাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, নগরীর অক্সিজেন এলাকার হাজী ওয়াজেদ আলী সিএনজি ষ্টেশন, টাইগারপাস, ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনসহ সিংহভাগ সিএনজি স্টেশনে ছিল গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে গ্যাস পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গ্যাস ভরতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
৩ নম্বর রুটের বাসচালক শাহজাহান মিঞা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে গিয়ে সময় ও আয় দুটোই নষ্ট হচ্ছে। তাই খরচ সামলাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
পূর্ববর্তী সংকটের তুলনায় নতুন সমস্যা
এর আগে গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ একই ধরনের গ্যাস সংকটে ভুগেছিল চট্টগ্রাম। সে সময় মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার সমস্যার কারণে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল নগরবাসীর মধ্যে। কিন্তু নতুন করে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবারও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপ মহাব্যবস্থাপক মো. রফিক খান বলেন, সরবরাহ কম থাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামে ১৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। সময়ের সঙ্গে সরবরাহ কমছে। কবে বাড়াবে আমাদের জানা নেই।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) মো. শোয়েব জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস) বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে জাহাজটি নিরাপদে টার্মিনালে ভিড়তে পারলে সরবরাহ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে। এতে চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট দ্রুত কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ট র ম ন ল ভ ড়ছ?
ট র ম ন ল ভ ড়ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ট র ম ন ল ভ ড়ছ matter?
ট র ম ন ল ভ ড়ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.