‘সুবর্ণ আকাশ’কে ঘিরে লেখক সম্মিলন
স বর ণ আক শ ক ঘ - সুবর্ণ আকাশ—বিশ শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে সৃষ্টিশীল মেধার এক নিরন্তর ধারক ওবায়েদ আকাশ। তাঁর পুরো জীবনই কাব্যচর্চার মধ্যে বিলীন—কবিতাই তাঁর
Table of Contents
কবিতার সুবর্ণযুগে ওবায়েদ আকাশের সম্মাননা
Banglabeacon.com – স বর ণ আক শ ক ঘ – সুবর্ণ আকাশ—বিশ শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে সৃষ্টিশীল মেধার এক নিরন্তর ধারক ওবায়েদ আকাশ। তাঁর পুরো জীবনই কাব্যচর্চার মধ্যে বিলীন—কবিতাই তাঁর ধ্যান ও জ্ঞানের উৎস। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাব্যচর্চা চালিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এই দশকের এক গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর কাব্যকৃতি ও জীবন থেকে সংকলিত ‘সুবর্ণ আকাশ’ হলো ৮০০ পৃষ্ঠার এক বিশাল গ্রন্থ, যা ‘কবি ওবায়েদ আকাশ সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকগ্রন্থ’ নামে পরিচিত। ২০২২ সালে ওবায়েদ আকাশ পা দেন পাঁচ দশকে, এবং সেই সময় থেকেই তাঁর জীবনের সুবর্ণজয়ন্তীকে এক সংকলনে লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অগ্রজ, সমসাময়িক ও অনুজ—এই তিন স্তরের লেখক মিলে ওবায়েদ আকাশ ও তাঁর কবিতা নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন মোট ১৩৬ জন। এর বাইরে আরও প্রায় ৫০টি লেখা রয়েছে, যা পরিসরের অভাবে ছাপা হয়নি। এই তথ্যগুলোই প্রমাণ করে যে ওবায়েদ আকাশ কবি, সম্পাদক ও মানুষ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি দখল করে আছেন বহু কবি ও লেখকের অন্তরের এক বিশেষ অঞ্চল।
প্রকাশনা উৎসব ও সম্মিলন
৩১ জুলাই বিকেল ও সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির কবি জসীম উদ্দিন ভবনের সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে ‘সুবর্ণ আকাশ’-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু এই অনুষ্ঠানে কবি ও লেখকদের এক সম্মিলন ঘটে, তাই এর অপর নাম ‘শুভেচ্ছা সম্মিলন’। অনুষ্ঠান শুরু হয় চারটায়, কিন্তু আমার পৌঁছাতে বিলম্ব হয় কুড়ি মিনিট। তবে কোনো কিছু হারাতে হয়নি, কেননা অনুষ্ঠান তখনো শুরু হয়নি।
এই দ্বিতল ভবনটি একসময় বাংলা একাডেমির পুরনো ভবন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এখানে মহাপরিচালক ও তাঁর সচিব বসতেন। এই সভাগৃহে কত গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার ইতিহাস লিখে রাখলে ৮০০ নয় ৮০০০ পৃষ্ঠা ছাপিয়ে যেত। অনুষ্ঠান শুরু হয় পৌনে পাঁচটায়।
স্বাগত বক্তব্য ও সম্পাদকের কথা
কবি ও শিল্পী স্বপন নাথ পডিয়ামের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আগ্রহী মুখের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মাইক্রোফোনে। তাঁর ভরাট কণ্ঠে তিনি বললেন, এ হলো ফিরে দেখা, তিন দশকের কাব্যপথচলার মূল্যায়ন। তিনি প্রথমেই মঞ্চে ডেকে নিলেন কবি বিমল গুহ, কবি ও নন্দনতাত্ত্বিক মাহফুজ আল-হোসেন, প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি সরকার আমিন, কবি খোকন মাহমুদ ও কবি নীলিমা নূরকে। এক মঞ্চে দুই সরকারকে দেখে জনতা উৎসাহী হলো তারা কী করে তা দেখতে।
স্মারকগ্রন্থটির সম্পাদনা ও প্রকাশকে ‘জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন’ বললেন মাহফুজ আল-হোসেন। ওবায়েদ আকাশের সাথে বন্ধুত্বকে বললেন ‘জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া’।
‘সুবর্ণ আকাশ’ স্মারকগ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন মাহফুজ আল-হোসেন। সঙ্গতভাবেই স্বাগত বক্তব্য দিতে তাকে আহবান করা হলো। ওবায়েদ আকাশের সাথে বন্ধুত্বকে তিনি বললেন ‘জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া’। তাদের বন্ধুত্ব যে গভীর ও শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ তার সাক্ষী হলো দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি বিপুল, আর বিপুল বলেই জটিল, কাজটি করে গেছেন। তিনি দমে যাননি, শেষাবধি কাজটি সম্পন্ন করেছেন।
ওবায়েদ আকাশকে তিনি সম্বোধন করলেন ‘লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের একজন অগ্রবর্তী যোদ্ধা’ হিসেবে, যিনি ‘শালুক’-এর মতো একটি সিরিয়াস ও উচ্চপ্রশংসিত লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে, পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা দৈনিক ‘সংবাদ’-এর সাহিত্য সাময়িকীর ৪ পৃষ্ঠা সম্পাদনা করছেন প্রায় দুই যুগ ধরে। তিনি বহু নবীন কবির লেখা প্রকাশ করেছেন। তাই সুবর্ণ আকাশে কেবল একটি তারা নয়, রয়েছে অনেক তারা।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ
শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও দীর্ঘ ৪ বছরের চেষ্টার পর ‘সুবর্ণ আকাশ’ প্রকাশ করতে পেরে মাহফুজ আল-হোসেনকে পরিতৃপ্ত মনে হলো। প্রতিবার হাসপাতাল থেকে ফিরে তাঁর একটিই পণ ছিল—আর তা হলো স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে একে একে প্রবেশ করছিল অতিথিরা। এমনি দুজন, দুজনেই কবি-সরকার মাসুদ ও ভাগ্যধন বড়ুয়াকে মঞ্চে এসে বসতে আমন্ত্রণ জানালেন স্বপন নাথ। ভাগ্যধন এসে মঞ্চে বসলেও সরকার মাসুদকে কোথাও দেখা গেল না।
এই অবসরে ওবায়েদ আকাশের কবিতা থেকে আবৃত্তি করলেন বাচিক শিল্পী নাঈলা তারান্নুম। আশ্চর্য যে এই বাচিক শিল্পীকে আমি পরপর তিনটি অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলাম। কবিতা আবৃত্তির আগে তিনি কবিকে পুস্পস্তবক অর্পণ করলেন। নাঈলা তারান্নুমের কণ্ঠস্বর ভরাট এবং তিনি আবৃত্তি করেন চমৎকার, খুব সুস্পষ্ট তাঁর উচ্চারণ। তিনি ওবায়েদ আকাশের দুটি কবিতা আবৃত্তি করলেন যার একটি নাম ‘প্রকৃতিপুত্র’। অন্য নামটি আমি ধরতে পারলাম না। আমার পাশে বসেছিলেন কবি বিনয় বর্মণ, তিনিও ধরতে পারেননি।
আবৃত্তির পরে আলোচনা করতে এলেন করি সরকার আমিন, তাঁর হাতে ঢাউস স্মারকগ্রন্থটি। তিনি সেটা দর্শকশ্রোতাদের দিকে তুলে ধরে বললেন, এত বড়ো একটা বই, ঈর্ষা জাগাই স্বাভাবিক। আমরা তো মৃত মানুষকেও ঈর্ষা করি, জীবিত মানুষের প্রতি ঈর্ষা থাকা স্বাভাবিক। বইটিকে পুনরায় তুলে ধরে তিনি বললেন, এই বইটি ঈর্ষা তৈরি করেছে। এ কথা বলে সরকার আমিন চলে গেলেন ঈর্ষার ব্যাখ্যার। তিনি ঈর্ষাকে প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবিক বলে আখ্যায়িত করলেন। বললেন আমরা রবীন্দ্রনাথকে ঈর্ষা করি, টি এস এলিয়টকে ঈর্ষা করি। কেন? কারণ আমরা তাঁদের মতো লিখতে পারি না, তাঁদের প্রতিভার সমাধান খুঁজি।
প্রশ্নোত্তর
সুবর্ণ আকাশ স্মারকগ্রন্থটি কখন প্রকাশিত হয়? ২০২২ সালে ওবায়েদ আকাশের পাঁচ দশক পূর্তির পর এই স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
এই গ্রন্থটি কে সম্পাদনা করেছেন? মাহফুজ আল-হোসেন এই স্মারকগ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন।
কতজন লেখক এই গ্রন্থে প্রবন্ধ লিখেছেন? মোট ১৩৬ জন লেখক অগ্রজ, সমসাময়িক ও অনুজ হিসেবে প্রবন্ধ লিখেছেন।
প্রকাশনা উৎসব কোথায় অনুষ্ঠিত হয়? বাংলা একাডেমির কবি জসীম উদ্দিন ভবনের সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স বর ণ আক শ ক ঘ?
স বর ণ আক শ ক ঘ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স বর ণ আক শ ক ঘ matter?
স বর ণ আক শ ক ঘ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.