Bangladesh

দেশি কই মাছেই কেন এত মাইক্রোপ্লাস্টিক?

দ শ কই ম ছ ই ক - বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, আইচাল বিলের পাঁচটি মাছের মধ্যে কই মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ

Desk Bangladesh
Published August 5, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : John Williams - banglabeacon.com
Table of Contents
  1. আইচাল বিলের মাছের শরীরে প্লাস্টিক কণার চিত্র
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

আইচাল বিলের মাছের শরীরে প্লাস্টিক কণার চিত্র

Banglabeacon.com – দ শ কই ম ছ ই ক – বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, আইচাল বিলের পাঁচটি মাছের মধ্যে কই মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ সর্বোচ্চ। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন কই মাছের খাদ্যাভ্যাস ও আবাসস্থলের বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে পরিবেশের প্রতিটি কোণায় এই প্লাস্টিক কণা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল আইচাল বিলের কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি—এই পাঁচ প্রজাতির মাছের মাংসপেশি ও অন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

কই মাছ কেন বেশি সংবেদনশীল?

গবেষণা নেতৃত্ব দেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহান। তাঁর মতে, কই মাছের সর্বভুক স্বভাবই এর মূল কারণ। খাবারের সন্ধানে কই মাছ পানির তলানি ও প্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। এই তলানি ও প্ল্যাঙ্কটনের সাথে মিশে থাকা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণাগুলো সহজেই গ্রহণ করে। ফলে অন্য মাছের তুলনায় কই মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, কই মাছ বেনথোপেলাজিক প্রকৃতির—যারা পানি ও তলানি—উভয় স্থানেই খাবার খোঁজে।

একাধিক গবেষণা বলছে, বিস্তৃত আবাসস্থল ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের মাছেরা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে বেশি আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, কই মাছের অন্ত্রে গড়ে ১.৭০ থেকে ১.৯০টি এবং ফুলকায় ১.৩০ থেকে ১.৪০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—কই মাছের মাংসপেশিতে অন্য চার প্রজাতির চেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

মৌসুমভেদে প্লাস্টিক কণার বিতরণ

বর্ষা, শীত ও শুষ্ক—তিন মৌসুমেই প্রতিটি কই মাছের মাংসে গড়ে একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অন্য চার প্রজাতির (বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি) মাংসপেশিতে গড়ে ০.৫০-০.৯০টি কণা পাওয়া গেছে। গবেষণা বলছে, মাছ সাধারণত অনিচ্ছাকৃতভাবেই মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করে। খাবার খোঁজার সময় বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় এগুলো পানির সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এগুলো অন্ত্র ও ফুলকার পাশাপাশি মাংসপেশিতেও জমা হতে পারে।

বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ নেই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে এ ধরনের কণা জমতে থাকলে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর এর প্রভাব দেখা দিতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

— অধ্যাপক মো. শাহজাহান

পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অবস্থান

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে। প্রসঙ্গত, গবেষণায় আইচাল বিলের পানিতে প্রতি লিটারে ১১-৩১.৬৭টি এবং পলিমাটিতে প্রতি কেজিতে ১২.৩৩-১২৭.৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বর্ষাকালে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় ৩৪-৬৩ শতাংশ কণা ছিল মাইক্রোফাইবার—যার প্রধান উৎস কাপড় ধোয়ার পানি, গৃহস্থালি বর্জ্য ও মাছ ধরার প্লাস্টিক জাল।

এই তথ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ কই মাছ বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাদ্য। আইচাল বিলের মাছ নিয়মিত ঢাকাসহ আশপাশের বাজারে বিক্রি হয়। মাছের মাংসপেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানে প্লাস্টিক কণা সরাসরি মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করছে।

গবেষণার পদ্ধতি ও প্রকাশনা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ‘জার্নাল অব হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস অ্যাডভান্সেস’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার আওতায় ২০২৪ সালের বর্ষাকাল, ২০২৪-২৫ সালের শীতকাল ও ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে আইচাল বিলের পাঁচটি স্থান থেকে পানি ও তলানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে পাঁচটি প্রজাতির (কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি) মোট ১৫০টি মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরীক্ষাগার পরীক্ষার পদ্ধতি ছিল—রাসায়নিক পরিপাক, ঘনত্বের ভিত্তিতে পৃথকীকরণ এবং ফিল্ট্রেশন; পলিমার শনাক্তকরণে ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করা হয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is দ শ কই ম ছ ই ক?

দ শ কই ম ছ ই ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ শ কই ম ছ ই ক matter?

দ শ কই ম ছ ই ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment