সাইবার সুরক্ষা আইনে নতুন সংশোধনী: কঠোর সাজা ও বিস্তৃত পরিধি
Banglabeacon.com – স ইব র আইন য ক ত – জাতীয় সংসদে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হওয়ার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এতে সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং হেয়প্রতিপন্ন করার অপরাধের সীমা আরও প্রসারিত করা হচ্ছে। এই সংশোধনীতে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপরাধের পরিধি ও সাজার বিস্তারিত বিবরণ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই সংশোধনী বিল উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। সাইবার জগতে অযাচাইকৃত বা অসত্য তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা বা আতঙ্ক সৃষ্টি করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করলেও একই অপরাধ বলে গণ্য হবে।
এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড, চার কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অডিও, ভিডিও, ছবি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কাউকে হেয় বা মানহানি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা দুই কোটি টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষ করে কোনো নারী বা অষ্টাদশ বর্ষীয়ণের কম বয়সী ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মানহানিকর ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হলে সাজা দ্বিগুণ হবে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দশ বছরের জেল এবং চার কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে।
বাস্তবায়ন ও তদারকির নতুন ব্যবস্থা
নতুন আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের আভাস অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে তদারকির মূল দায়িত্ব পেতে পারে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)।
সরকারপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া অডিও-ভিডিও তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত অপপ্রচার ছড়ানোর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষায় আইনটি আরও কঠোর করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আইন কঠোর করার এই উদ্যোগ নিয়ে খোদ সরকারের অভ্যন্তরে এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ শব্দগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলে আইনটির অপপ্রয়োগের ব্যাপক সুযোগ থেকে যাবে। তারা সব অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সরকারের এক পক্ষ কঠোর সাজার পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষ মনে করছে, এতে দেশে সমালোচনা বাড়বে, অপপ্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ব্যাপক সমালোচিত ২০১৮ সালের ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ২০২৪ সালে বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে চলতি ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল সংসদে নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ পাস হয়। কিন্তু কার্যকরের মাত্র তিন মাসের মাথায় এটি আবার সংশোধনের মুখে পড়ল।
