জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্টের রুল
হাইকোর্ট রুলে প্রতিশ্রুতি ও সংকট প্রকাশ করেছে
জনগণ র স ব স থ য – সোমবার (১৮ মে) হাইকোর্টে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে বেঞ্চটি রুল জারি করে। আদালত সরকারের সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নে অক্ষমতা ও অগ্রগতি বিপর্যয় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনের প্রধান বিষয়গুলি
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সংবিধানের ১৫, ১৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারের দায়িত্ব ছিল সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে বাস্তবে এই কাজটি কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে স্বাধীন কমিটি গঠনের ও আগামী তিন মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।
সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক আর্থিক দুর্ভোগ ছাড়াই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞার ভিত্তিতে সরকারের সেই দায়িত্ব পূরণ করা হয়নি।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ জনগণ নিজেদের পকেট থেকে বহন করে। ফলে প্রতিবছর লাখো পরিবার দারিদ্র্যের সীমার নিচে নেমে আসছে। বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ে আক্রান্ত হয়ে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সিপিডি এবং বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী দেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম আছে। মোট বাজেট ও জিডিপির তুলনায় এটি অত্যন্ত কম। এছাড়া বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে।
আরও গুরুতর সংকট হাইকোর্টে জনসংখ্যার সাথে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাতে প্রকাশ পেয়েছে। চিকিৎসক জনসংখ্যার অনুপাত দেশে ১:২০০০ এবং নার্সের পরিমাণ মাত্র ১:৫০০০। এই সংখ্যাগুলি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অসুবিধার চিত্র দেখাচ্ছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা দূর করে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে রোগের ছড়ানো কমবে, আর্থিক চাপও কমে আসবে। এর ফলে সংবিধানে বর্ণিত �