তথ্য-জ্ঞান বিস্ফোরণে সংবাদমাধ্যমের দায়
তথ য জ ঞ ন ব স – তথ্য আর জ্ঞানের বিস্ফোরণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গেলে সংবাদমাধ্যমের মূল ধারণা বদলে যাওয়া প্রক্রিয়া আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ডিজিটাল যুগের চালু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের উন্নয়ন পরিবর্তন ঘটিয়েছে আবিষ্কারের আগে থেকে পাঠকের প্রতি সংবাদমাধ্যমের অনুমান ও সম্পর্ক গড়ে উঠার ধারণা।
সংবাদ বা কনটেন্ট গ্রহণের পরিবর্তন
২০২২ সালে মার্কিন গবেষক কেট আইখর্নের বই ‘কনটেন্ট’ থেকে বুঝতে পারি যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ইন্টারনেটের পরিসরে একে অপরকে স্থান দিয়েছে। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর হতে পত্রিকা আর ভিডিওর মতো উপকরণগুলো এক সঙ্গে যে সেই ‘খবরপণ্যের’ বিবর্তন ঘটেছে।
যেসব নিউজ পাঠক ‘খায়’ না, সেগুলো লেখার দরকার নেই।
গুগল অ্যাডসেন্সের বদৌলতে হিট, ভিউ ও ট্রাফিক শব্দগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এ যুগে তথ্যের প্রকৃতি বদলে গেল এবং কোটি কোটি মানুষ সেই শব্দগুলো পরিচিত করেছে।
ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
বিশ্বব্যাপী প্রতি মিনিটে ১ কোটি ৬০ লাখ টেক্সট বার্তা আদান-প্রদান হয় একাংশ গবেষণা অনুযায়ী। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৫০০ ঘণ্টা নতুন ভিডিও কনটেন্ট এবং ব্যবহারকারীরা প্রতি মিনিটে ১০ লাখ ঘণ্টা অনলাইন ভিডিও দেখে। এই সংখ্যা এআই আর অনলাইন প্রযুক্তির সম্পূর্ণ পরিবর্তনে আরও বেড়ে চলেছে।
বিখ্যাত নিউরন জার্নালে প্রকাশিত মার্কিন নিউরোবায়োলজিস্ট মার্কাস মাইস্টার ও গবেষক জিয়েউ ঝেং এর গবেষণায় মানুষের চিন্তার গতি প্রতি সেকেন্ডে ১০ বিট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। যেমন- একটা ভাইরাল ছবি, যার ভেতরে কোনো জ্ঞান বা তথ্য নেই আরও হতে পারে। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ এটি দেখছে।
তথ্যের মহাসমুদ্র ও সংবাদমাধ্যমের ধারণা
বিশ্বাস আর সম্পর্ক গড়ে তোলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক দশক ধরে ব্যাপক আলোচিত শব্দটি হচ্ছে ‘তথ্যের মহাসমুদ্র’। এ তত্ত্ব দেখায় প্রতিমুহূর্তে তথ্য উৎপাদন হচ্ছে পৃথিবীতে।
আইবিএমের গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ডেটা বিস্ফোরণের ফলে ২০২০ সালের পর মানবজাতির তথ্য ও জ্ঞান প্রতি এক দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এই সময় নেমে এসেছে আরও সংক্ষিপ্ত হয়ে