দুর্যোগ মানসিক স্বাস্থ্য অবনতি বৃদ্ধি করছে
দ র য গ ম নস ক – বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের প্রকৃতির শক্তিশালী পরিপ্রেক্ষিতে জীবিত থাকার উপায় শেখায়। প্রতি বছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমাদের বিস্তীর্ণ উপকূল এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন তছনছ করে দেয়। কিন্তু এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতিকে দেখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্রের প্রতি। কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি ভাঙার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনসিক অবস্থার দিকটি যে আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে সেটিও অস্বীকার করা যায় না।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি অগ্রাধিকার হারায় না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ক্লাইমেট অ্যাংজাইটি। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বারবার সম্পদ হারিয়ে যাওয়া মানুষদের মনে মানসিক অস্থিত্ব সৃষ্টি করে। জোয়ারের পানি বাড়ার সময় কিংবা কালো মেঘ আকাশে জমার সময় তাদের মনে অজানা আতঙ্ক দানা বাঁধে। এটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত বা ট্রমা।
আশ্রয়কেন্দ্রে বা নতুন জায়গায় আশ্রয় নেয়া মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য দুর্যোগ এক ধরনের বিপর্যয় হিসেবে ধরা হয়, যেখানে নিজের পৈতৃক বাড়িঘর ও জীবিকা হারিয়ে গেলে তাদের সামাজিক পরিচয় থেকে ছিটকে পড়তে হয়।
বিশেষ তথ্য জার্নাল থেকে
BJPsych International জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও কিশোরদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছিলো প্রায় ৪৮ শতাংশ শিশু ও কিশোর। এই মানসিক সংকট নীরব ঝড় হিসেবে মনে করা হয়।
খুলনার দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের ৩৫০ জন নারীর মধ্যে ৬৩ শতাংশ মাঝারি থেকে গুরুতর মাত্রার বিষণ্নতায় ভুগছেন। বাড়িঘর ক্ষতি, জীবিকা হারানো এবং পারিবারিক সংঘাত তাদের মানসিক অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Journal of Affective Disorders Reports -এ প্রকাশিত গবেষণায় নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে উদ্বেগের হার ৭৬ শতাংশেরও বেশি হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। শহরের অপরিচিত