শীতের দেশে বিজ্ঞানী, গরমে দারিদ্র্য, ভূগোল কি ভাগ্য লেখে?
ঘন বাতাস ও প্রাণ বায়ুর প্রতিক্রিয়া
শ ত র দ শ ব জ – ঘন বাতাসের মধ্যে পৌনে একটা দুপুর পর্যন্ত দারিদ্র্যের চূর্ণে দাঁড়িয়েছেন আবুল কাসেম। পুরানো পল্টনের মোড়ে ট্রাফিক সিগনালে আটকে থাকা রিকশার হাতল ধরে তিনি হাঁপাচ্ছেন। কপালে জমে থাকা ঘাম মুছে নিয়ে আকাশের দিকে তাকানোর সময় একটি অনুভূত তাপমাত্রা বা হিট ইনডেক্স পরিমাপ করা হয়েছে। ঢাকার তাপমাত্রা তখন ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিন্তু বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। কাসেম মিয়া বলেন, “রিকশা চালানো তো দূরের কথা, এই গরমে শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে যায়। দুই ক্ষ্যাপ মারলেই মাথা ঘোরে। আগে দিনে সাত-আটশো টাকা কামাইতাম, এখন শরীর সায় দেয় না। দুপুরে গ্যারেজে গিয়ে শুয়ে থাকি। আয় অর্ধেক হয়ে গেছে।”
বাংলাদেশের বিপরীত দিকে বোস্টন
ঠিক বাংলাদেশ সময় যখন দুপুর একটা, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে আরামদায়ক ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোনো অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক আবহাওয়া চলছে। সেখানে একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গবেষণাগারে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জটিল সমীকরণ সমাধান করছেন অধ্যাপক উইলিয়াম স্মিথ। তাঁর মতে, শীতল অঞ্চলে জীবাণু ও মশার লার্ভা নিয়মিত ধ্বংস হওয়ায় রোগবালাই কম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্সের মতে, ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মহামারি নিয়মিত হানা দেয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রতি বছর ১.৩ শতাংশ কম হয়।
প্রমাণ ও প্রতিবেদন
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে তীব্র গরমের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বাবদ প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপিতে ০.৪ শতাংশ। প্রতিবেদন দেখায় যে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে কর্মক্ষমতা আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এই পরিস্থিতি গরম বা ভূগোলের জন্য নয়, বরং সেই দেশগুলো যে সময়ে মানুষ চরম দারিদ্র্যের সীমার নিচে থাকে, তার প্রায় ২০০ কোটি মানুষ আছে।
যে দেশে ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মহামারি নিয়মিত হানা দেয়, সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রতি বছর ১.৩ শতাংশ কম হয়।
বিজ্ঞান ও গবেষণার সূচক
১৯০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার প্রায় ৯৫ শতাংশ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের শীতপ্রধান অঞ