নওগাঁয় অধ্যক্ষের স্ত্রীর মৃত্যু রহস্য উন্মোচন
নওগ য় অধ যক ষ র স – নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের আগের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬৫) কে ঘুমের ওষুধে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যার ঘটনায় পুলিশ হাসিনা বেগম (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার প্রতি আগ্রহ জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত নয়টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য ঘোষণা করেন। হাসিনা বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে তিনি ফাতেমা বেগমকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে গয়না বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজতে পুলিশ কাজ করছে।
বিপর্যস্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া
গত জুনের শেষ দিকে ফাতেমা বেগমকে অজ্ঞান করে তার স্বর্ণালংকার নিয়ে শহরের নদীপাড় এলাকার ময়লার স্তূপে ফেলে দেয় একটি প্রতারক চক্র। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসার মাঝে তার মৃত্যু ঘটে।
“তিনি টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি তাকে ফার্মেসিতে নিয়ে গেছিলেন। পরে বিশ্বাস অর্জন করে তাকে নিজের রিকশায় তুলে নিয়েছিলেন।”
রিকশায় থাকা অবস্থায় তার কাছে থাকা জিওনিল নামের ঘুমের ওষুধের ছয়-সাতটি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে পান করিয়েছিলেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তার গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে তাকে ময়লার স্তূপে ফেলে পালিয়ে যায় হাসিনা।
তদন্ত এবং অপরাধের তথ্য
হাসিনা বেগম লুট করা গয়না শহরের একটি জুয়েলারি দোকানে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের খুঁজে বার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে চশমা ও মুখে মাস্ক পরা এক নারীকে আড়াই বছরের একটি শিশু সহ দেখা যায়।