Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

স্বপ্নের ছাই ধুয়ে গেল বৃষ্টিতে, ঈদ ফ্লাইওভারের নিচে

Published May 27, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Patricia Jackson - banglabeacon.com

Foto : Patricia Jackson - banglabeacon.com

স্বপ্নের ছাই ধুয়ে গেল বৃষ্টিতে, ঈদ ফ্লাইওভারের নিচে

Banglabeacon.com – স বপ ন র ছ ই ধ - রাজধানী ঢাকার আকাশ সকালের পর থেকে কালো হয়ে আছে। নিত্যনতুন বৃষ্টি দিন দুই ঘণ্টা ধরে চলছে। কালশী বস্তির পোড়া ধ্বংসাবশেষ দেখে আনোয়ারা বেগম তার নাতি-নাতনিদের সাথে অবাক হয়ে রয়েছেন। গত দুই মাসে তাঁদের সম্পূর্ণ পরিবারের স্থান ছিল এই বস্তি। পরিবারের ১০ সদস্য ও তিন সন্তান সহ দুটি ছোট ঘরে বাস করতেন তিনি।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যার আগুন তাদের শেষ সম্বল নিয়ে যায়। পূর্বে তার জন্য ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন তাঁর পরনে থাকা কাপড় ছাড়া কিছু বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দুই ঘণ্টার মধ্যে পুড়ে যায় কালশীতে বিশৃঙ্খলার কারণে ছাই হওয়া সব জিনিস। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট।

বস্তিতে প্রায় এক হাজার দুই শত ঘর ও ভাঙারির দোকান ছিল। যেখানে প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ বাস করতেন। আগুন ধ্বংস করে দেয় স্বপ্নের ছাই হয়ে গেল সেই স্থানে। ছিন্নমূল শিশুদের স্বপ্ন খুঁজছে পুড়িয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি থেকে।

আনোয়ারা বেগম তার স্বামী নাসির উদ্দিন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে একই দশা অনুভব করছেন। তার তিন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সাথে ১৮ বছর ধরে তিনি বস্তিতে বাস করেছেন। এখন তার আশ্রয় ফ্লাইওভারের নিচে। এই অবস্থায় ঈদ আনন্দ শুধু আর্তনাদে পরিচিত হয়েছে।

পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে সাহায্য চাইছেন বাসিন্দারা

কালশী বস্তি গত সপ্তাহে উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৮০ শতাংশ খালি হয়ে গিয়েছিল। এখন বাকি থাকা বাসিন্দাদের কণ্ঠে আর্তনাদ শুনা যাচ্ছে। প্রায় ছয় লাখ টাকা দিয়ে মাসে খালি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে থাকতেন আসমা বেগম ও তার স্বামী। তিনি বলেন, ‘এই ফ্লাইওভারের নিচেই ঈদ কাটবে।’

‘আমাদের সব জিনিসপত্র ছাই হয়ে গেছে। শুধু প্রাণটা বাঁচাতে পেরেছি।’

কালশী বস্তির নিঃস্ব মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য নিয়ে তারা সাময়িক স্থান খুঁজছেন। প্রায় ৬০ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয় একটি স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম। তাদের বেশিরভাগই দগ্ধ ও কাটা-জখম।

আগুন লাগানোর অভিযোগে নাজমুল হাসান মনিকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন বস্তিবাসীরা। তাঁদের দাবি, নাজমুল এবং এক দোকানদারের মধ্যে বিরোধ ছিল। পূর্বে স্থানীয়দের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি বস্তিতে আগুন লাগানোর ব্যাপারে। পরে তার উপর প্রতিবাদ করে পুলিশে তুলে দেয়া হয় তাকে।

পল্লবী