Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রামিসা হত্যাকাণ্ড: শেষ হলো সাক্ষ্যগ্রহণ, এবার ‘কাঠগড়ায় খুনিরা’ | সংবাদ

Published June 3, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Patricia Jackson - banglabeacon.com

Foto : Patricia Jackson - banglabeacon.com

রামিসা হত্যাকাণ্ড: শেষ হলো সাক্ষ্যগ্রহণ, এবার ‘কাঠগড়ায় খুনিরা’

Banglabeacon.com – র ম স হত য ক ণ - আদালতের মধ্যে জুড়ে গেছে কান্নার ছায়া; সাক্ষ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রামিসা আক্তারের বাবা-মা পর্যন্ত চোখে জল বেড়ায়। এই বাসার সামনে যে চঞ্চল পায়ে তিনি ঘুরে বেড়াতো, সেই পায়ে একটি মাত্র জুতো এখন হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ১৯ মে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। কাটা মাথাটি বাথরুমে পড়েছিল। এই পাশবিক ঘটনার বিচার এখন চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ মাত্র দুই দিনে শেষ হয়েছে।

তদন্তের কক্ষে যখন প্রতিদিন আলামত আর ডিএনএ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হচ্ছিলো, তখন পুরো আদালত চত্বরে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা অসুস্থ হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। বাসার সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খুলছিল না।

‘ঘটনার দিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রী ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেছিলেন। বাসায় ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে এবং পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খুলছিল না। হাতুড়ি দিয়ে লক ভেঙে ভেতরে ঢুকি। টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই।’

এই দৃশ্য দেখার পর বাবার বুকে যে ঝড় উঠেছিলো, তা আদালত কক্ষে কেউ বর্ণনা করতে পারেননি। দুপুরে আবার সেই অ্যাম্বুলেন্সে করেই তিনি ফিরে যান হাসপাতালে। যাওয়ার আগে কেবল একটি কথাই উচ্চস্বরে বলতে পেরেছেন, ‘আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই, খুনিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক করে সেই দিন আসেন তারা অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কামরায় বন্ধ করে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

মা পারভীন আক্তার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জবানবন্দি দেন। প্রায় সময় রামিসার ছোট বোন রাইসা আক্তার আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের চোখে কোণও ভিজে ওঠে। মায়ের কথার সাথে তিনি প্রতিষ্ঠার মতো বিশেষ পরিস্থিতি বর্ণনা করেন।

‘ঘটনার সময় আমি বাসায় রান্না করছিলাম। এ সময় শিশুর চিৎকার শুনেছিলাম। সেটি আমার মেয়ের চিৎকার ভেবেছিলাম। একটি জুতা দেখে মনে হয় সেই চিৎকার আমার মেয়েরই ছিল।’

প্রযুক্তিগত সাক্ষ্য প্রদানের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আগের দিন প্রধান আসামি সোহেল রানা প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় গণমাধ্যমের সামনে চিৎকার করে নাটকীয় বক্তব্য দেওয়ায় আজ পুলিশী নিরাপত্তা বেশি হয়েছে।