Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

যেখানে জীবনানন্দ ভালোবেসেছিলেন লাবণ্যকে, অনুপ্রেরণার দি‌য়ে‌ছি‌লেন রবিঠাকুরও | সংবাদ

Published May 31, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jennifer Taylor - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Taylor - banglabeacon.com

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ব্রাহ্মসমাজ মন্দির

Banglabeacon.com – য খ ন জ বন নন দ - পাটুয়াটুলীর ঘিঞ্জি রাস্তায়, মানুষের অসামান্য কোলাহল আর রিকশার অবিরাম শব্দের মাঝে হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় রক্তিম লাল দালানটির প্রতি। এই স্থাপনাটি ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছাপ নিয়ে গড়ে উঠেছিল, কিন্তু এটি কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি সুমনা হাসপাতালের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরের স্মৃতি।

শিক্ষার স্বপ্ন ও বৈবাহিক সূত্র

দীননাথ সেনের প্রতিষ্ঠা করা ১৮৬৬ সালের মন্দিরটি ঢাকার আধুনিক শিক্ষার স্বপ্ন সূচনা করেছিল। এখানে বিশেষ করে সমাজ সংস্কার আর নারী শিক্ষা গঠনের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে কাজ করেছিল ব্রাহ্ম স্কুল। আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঁতুড়ঘর ছিল মন্দিরের প্রাঙ্গণেই গড়ে ওঠা। প্রাঙ্গণের অন্য কোণে ছিল রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি, যা দেখে সমাজের কাছে প্রাচীন জ্ঞানের স্মারক ছিল।

সুন্দর প্রার্থনা কক্ষ

মন্দিরের ভেতরটি শান্ত এবং সুবিশাল একটি হলঘর। প্রবেশের জন্য চারপাশের বারান্দা থেকে মূল প্রার্থনা কক্ষে ১৬টি পথ রয়েছে। কোনো দেবতার মূর্তি নেই কারণ ব্রাহ্মরা নিরাকার একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। রবিবার প্রতি উপাসনা ও প্রার্থনা সঙ্গীত চলে। যেমন শুধু ওই সকাতরে কাঁদিছে আর আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে গানগুলো পিয়ানো সুরে বেজে ওঠে।

১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকায় আসার সময় এই মন্দিরে একটি নারী সমাবেশে তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। তখন এই পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিল। আজ সময়ের আবর্তে মানুষ এসব ভুলে যাচ্ছে।

১৯৩০ সালের ৯ মে কবি জীবনানন্দ দাশ এই শান্ত আবহে লাবণ্য দাশের হাত ধরে বৈবাহিক পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। নিজেদের পরম পরিপাটি টিকিয়ে রেখেছেন ব্রাহ্মসমাজের সেক্রেটারি রণবীর পাল। তিনি বলেন, "এই সেই পবিত্র বেদি, যেখানে কবি তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন।"

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে নৃশংস অগ্নিসংযোগে রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরির অনেক দুষ্প্রাপ্য বই আর পাণ্ডুলিপি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই শূন্যতার কথা স্মরণ করে রণবীর পাল রবি আক্ষেপের সাথে বলেন, "একাত্তরের আগুন আমাদের জ্ঞানের আধারটিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আজ সেই প্রাচীন বইগুলো আর কোনো পাঠক নেই। লাইব্রেরিটা আজ বড্ড নিথর পড়ে থাকে।"

যাত্রার সময় কিছু আঘাত হয়েছিল যা ইতিহাসের অনুসারীদের মনে কাঁদায়। কিন্তু প্রতি রবিবার গোধূলি লগ্নে প্রার্থনা সঙ্গীতের আওতায় মনে হয় সময়টা এক শতাব্দী অতীতে ফিরে গেছে। যাত্রা শেষে প্রার্থনা কক্ষের বাতিগুলো নিভে যাওয়ার সময�