Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিয়ে করা হলো না তারেকের, ফিরলেন লাশ হয়ে

Published May 25, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Mark Hernandez - banglabeacon.com

Foto : Mark Hernandez - banglabeacon.com

তারেকের বিয়ে হয়নি, তিনি লাশ হয়ে ফিরেছেন

Banglabeacon.com – ব য় কর হল ন ত র - নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অবস্থিত একটি বাড়ি নতুন ইটের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। যাত্রীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্মাণ করতে এবং বিয়ে সাজাতে স্বপ্ন দেখছিলেন তরুণ তারেক রহমান। কিন্তু দুর্ঘটনার ফলে তার সেই আশার মৃত্যু ঘটে গেল।

সোমবার (২৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত ১২ জন ফেরিওয়ালার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে মাত্র ৯ জনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে।

তারেক রহমানের বাড়ি রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়েছে। বাবা সুলতান ও মা মোমেনা বেগম তাদের কষ্টার্জিত টাকার সাথে সদ্য পাকা বাড়ির সামনে মূর্ছা পাচ্ছেন। তার ছোট ছেলেকে বিয়ে দেবেন বলে কথা ছিল।

“আমার দুই ছেলে নোয়াখালীতে হরেক মালের ব্যবসা করত। তাদের কষ্টার্জিত টাকায় ভাঙা ঘর মেরামত করে ইটের দেয়াল দিয়েছি। এখনো চাল দেওয়া হয়নি। কথা ছিল বাড়ি শেষ হলে ছোট ছেলেকে বিয়ে দেব। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।”

“ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কত কষ্ট করে ভাঙা ঘরে থাকতাম। ছেলেরা আমাদের কষ্টের দিন শেষ করেছিল। আজ সকালে খবর পেলাম আমার ছোট ছেলেটা আর ফিরবে না, লাশ হয়ে ফিরছে।”

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা সবাই পেশায় হরেক মাল বিক্রেতা বা ভ্রাম্যমাণ হকার ছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তারা পুরোনো মোবাইল ও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সহ নানা জিনিসপত্র কেনাবেচা করতেন। প্রায় ২০ দিন আগে ব্যবসার কাজে তারা নোয়াখালী গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরতে তারা নোয়াখালী থেকে রওনা হন। যাতায়াত খরচ বাঁচাতে ফেনী থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে বসেন। কিন্তু টাঙ্গাইলে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত তারেক রহমানের পরিবার বলেছেন, এখনো তাদের ঘর তৈরি করা হয়নি। তার অকাল মৃত্যুতে গ্রামগুলো স্তব্ধ হয়ে পড়ে