Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

Published May 18, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Susan Brown - banglabeacon.com

Foto : Susan Brown - banglabeacon.com

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

Banglabeacon.com – ব ল প ত র পথ ঐত - সাতক্ষীরা জেলায় গ্রামীণ জনগণের কৃষিপ্রধান জীবনে বিশেষ স্থান অধিকার করে ধানের গোলা। তবে আধুনিক স্থাপনার বৃদ্ধি এবং শহরের প্রসারের সমস্যার কারণে এই ঐতিহ্য প্রায় সম্পূর্ণ অবক্ষয়ের মুখী হয়েছে। কয়েক দশক আগে গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবার ধান সঞ্চয়ের জন্য গোলার ব্যবহার করত। বর্তমানে কৃষকদের বাড়িতে ধানের গোলার সামান্য পরিচিতি রয়েছে বলে মনে হয়। কেবলমাত্র সাতক্ষীরা জেলার কিছু অঞ্চলে গোলার প্রাচীন রূপ আজও দেখা যায়।

প্রাচীন যুগের প্রতীক

গত কয়েক দশকে ধানের গোলা ছিল সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কন্যার বিয়ের সময় বরপক্ষের বাড়িতে ধানের গোলার সংখ্যা সম্পর্কে কনেপক্ষ খোঁজ নেওয়া হত। কিন্তু আধুনিক সময়ে এই পুরানো ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে।

“পূর্বে কাদা-মাটির প্রলেপ দিয়ে বাঁশের চটা দিয়ে গোলাকৃতির গোলা তৈরি করা হত। ইঁদুর বা চোর থেকে রক্ষা পেতে গোলার মুখ উঁচুতে রাখা হত। মাথার ওপর খড় বা টিনের পিরামিড আকৃতির ছাউনি বসানো হত।” – সাতক্ষীরা জেলার প্রবীণ বাসিন্দা রহমতুল্লাহ সরদার ও রহিমা খাতুন।

কারিগরের পরিবর্তনে স্থানান্তর

সময়ের অগ্রগতি এবং কারিগরদের অভাবের কারণে ধানের গোলার তৈরি কাজ হারিয়ে গেছে। এখন অধিকাংশ কৃষক ধান সংগ্রহ করার পর তা পাকা ইটের ঘরে বস্তাভর্তি করে রাখেন বা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। এর ফলে গোলার রূপ আর প্রাচীন গ্রামে দেখা যায় না।

“দাদা ও বাবার আমলে ধান গোলায় রাখা হত। এখন গোলার প্রচলন নেই বললেই চলে। কিন্তু স্মৃতি হিসেবে আমরা কয়েকটি গোলা এখনও টিকিয়ে রেখেছি।” – রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ।

শহরের বিস্তারে ক্ষীণ হয়ে আসা

আধুনিক গুদাম ঘর এবং প্লাস্টিক বস্তার সুবিধার কারণে ধানের গোলা হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষিব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।