Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পচে যাওয়া চামড়া নদীতে ফেলছেন ব্যবসায়ীরা

Published June 1, 2026 · Updated July 21, 2026 · By John Williams - banglabeacon.com

Foto : John Williams - banglabeacon.com

মৌলভীবাজারে কোরবানি চামড়ার ব্যবসায়ীদের ধ্বংস হচ্ছে

Banglabeacon.com – পচ য ওয় চ মড় নদ ত - মৌলভীবাজারে কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারে পৌঁছানো প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চরম সংকটে পড়েছেন। তীব্র পরিস্থিতি ও লবণের উচ্চমূল্যের কারণে এলাকাগুলোতে চামড়া পচে যাচ্ছে। দুর্গন্ধ দূর করতে কেউ কেউ চামড়া মাটিতে ছুড়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন।

পুনরায় পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদ

স্থানীয়দের মতে, অতিপূর্বে ঈদ পর্বের কয়েক দিন আগে থেকে মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরা কোরবানিদাতাদের চামড়া সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করতেন। কিন্তু এবার অবস্থা ভিন্ন। অনেক জায়গায় দিনভর অপেক্ষা করেও ক্রেতা বা সংগ্রহকারী আসেনি।

“মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রতিবছর চামড়া নিয়ে আসত, এবার তাদের দেখা হয়নি। পরিবেশ দূষণ রোধে একদিন অপেক্ষা করে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছি। গ্রামের আরও অনেকে একই কাজ করেছেন,” বলেন কমলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া।

বালিকান্দি হাট এখনও বিপন্ন

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিশিষ্ট বালিকান্দি চামড়ার হাটে অবস্থা নাজুক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লবণের দাম বেড়েছে বলে অনেক চামড়ায় সময়মতো লবণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় গরুর চামড়া মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা পরিবহন খরচের চেয়ে কম।

“সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনলেও লবণ সংকটে আমরা দিশাহারা। প্রক্রিয়াজাত করতে অন্তত ৩০০ মণ লবণ দরকার, কিন্তু আমাদের কাছে আছে মাত্র ১৫০ মণ। পর্যাপ্ত টাকাও নেই। ফলে পচে যাওয়া চামড়া নদীতে ফেলা বা মাটিতে ছুড়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকছে না,” বলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত।

এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা জানান, গত কয়েক বছর চামড়া সংগ্রহে লোকসান হওয়ায় এবার অনেক প্রতিষ্ঠান সংগ্রহে আগ্রহ দেখায়নি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, মৌলভীবাজারে এবার প্রায় ৭১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বালিকান্দির ব্যবসায়ীরা যতটুকু সম্ভব চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।