Banglabeacon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

এখনও আনিসুজ্জামান নিভৃত বাতিঘর | সংবাদ

Published May 15, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jennifer Anderson - banglabeacon.com

Foto : Jennifer Anderson - banglabeacon.com

আনিসুজ্জামান নিভৃত বাতিঘর

Banglabeacon.com – এখনও আন স জ জ ম ন - বিশ্ব মহামারি করোনার কারণে ঘটেছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের অসামান্য প্রস্থানের আঁকড়া চিরায় সামান্য হয়ে যায়। তাঁর চুরাশি বছর ধরে শাণিত জাতীয় জীবনে সংস্কৃতি, রাজনীতি, আন্দোলন এবং সংগ্রাম কেন্দ্রিক কর্ম তৈরি করেছিলেন যার কোনো দ্বিতীয় হয় না।

তিনি গত শতকের পঞ্চাশের দশকে অসাধারণ গুণে চূড়ান্ত আকাশে অবতীর্ণ হন। আনিসুজ্জামান নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন বিশেষ কিছুতে আটকে রাখা যায় না। তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধিজীবী প্রতিভা দিয়ে অন্ধকারে জাতীয় জীবন আলোকিত করেছিল।

ধৈর্য ও সময়ের শক্তি

“পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দুই যোদ্ধা হলো ধৈর্য এবং সময়”

লিও টলস্টয়ের এই উক্তি দিয়ে আনিসুজ্জামানকে আবিষ্কার করা যায়। তাঁর চেহারার দিকে তাকালে তিনি কতটা স্থির ও ধৈর্যশীল মানুষ বুঝতে পারেন। যারা সময়কে চিনতে পেরেছেন এবং তার প্রতিটি ক্ষণ কাজে লাগিয়েছেন তিনি ব্যক্তি জীবনে এমন সাধনা করেছিলেন যার কোনো দ্বিতীয় হয় না।

সামাজিক পরিবেশে তাঁর মূল্য ছিল সাধারণ মানুষের চেতনার সৃষ্টি করার দায়িত্ব। তাঁর জ্ঞাত অতীত থেকে মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সংস্কৃতি ও চেতনার ইতিহাস জেনেছেন এবং সেই জ্ঞান দিয়ে বাঙালি জাতি জাগিয়েছেন।

অনেক সময় সেই ঝড়ের মতো কিছু ঘটনা দিয়ে আমাদের পুরো বাঙালি জাতি কাঁপে যায়। তিনি চির অভিমানী হয়ে ওঠেন যখন আলো ছাড়া অন্ধকারে দিনের সম্মান বাঁচিয়ে রাখেন। কোনো কোনো দিনে আকাশজুড়ে মেঘ ঘনিয়ে আসে এবং দিনের আলো তার উজ্জ্বলতা হারায়, কিন্তু রাত্রিতে রূপান্তরিত হয় না।

একটি প্রকাশ্য সুখ তৈরি করেছেন তিনি যখন সামান্য শিক্ষক হিসেবে চুরাশি বছর জাতীয় চেতনা প্রসারিত করেছিলেন। যার জন্য তাঁকে অনেক উচ্চতর কোনো পদবি দেওয়া যায় না।

বাঙালি জাতির সমগ্র জীবনে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব থাকে যারা কেউ চাপিয়ে না দিলেও চেতনাহীন শিক্ষার পরিবেশ আলোকিত করেছেন। তাঁর বুকে চেপে বসা অনিশ্চয়তা আর দুর্লঙ্ঘ্য পথের অসহযোগিতা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণকে দিয়ে অনেক প্রকাশ্য হাসি তৈরি করে।

তাঁর যে পরিমাণ ধৈর্য ও সময়ের মধ্যে বাঙালি জাতির আকাশ-বাতাস-অরণ্য-সমুদ্র-নদী বিশ্বাস করে। যখন নেতা, রাজনীতিক, শাসক, বুদ্ধিজীবী কিংবা অন্য কর্মকর্তা দায়িত্ব ফেলে চলে যান, তখন অবশিষ্ট আছে তাঁদের জন্য শেষ আলো।